• গুজরাটে অনার কিলিং! ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও, হাতুড়ি দিয়ে তরুণীর মাথা থেঁতলে খুন বাবা-দাদার!
    প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও বানিয়েছিলেন তরুণী। এই ‘অপরাধে’ পরিবারের লোকের হাতে নৃশংসভাবে মরতে হল ২২ বছরের সোফিয়া ফারুককে। পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পরপর হাতুড়ির বাড়ি মেরে মাথা থেঁতলে দেওয়া হয় তরুণীর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মৃতের বাবা ও তাঁর দাদা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ মাস আগে পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন গুজরাটের সারখেজের বাসিন্দা ওই তরুণী। সম্প্রতি সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়। বিষয়টি পরিবারের নজরে আসতেই পরিবারের সম্মানরক্ষার নামে মেয়েকে ব্যাপক মারধর করে তাঁর বাবা। এই ঘটনার সঙ্গ দেয় তরুণীর দাদাও। এরপর তরুণীকে সারখেজের গেলজিপুরার কাছে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মাথায় পরপর হাতুড়ির বাড়ি মেরে মাথা থেঁতলে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যাকাণ্ডের পর এই ঘটনাকে পথ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

    পুলিশকে পরিবারের তরফে জানানো হয়, ১২ আগস্ট রাতে দাদার বাইকে করে আসছিলেন সোফিয়া। সেইসময় পিছন থেকে একটি গাড়ি এসে বাইকে ধাক্কা মারে। তাতেই পড়ে গিয়ে মাথার পিছনে আঘাত লাগে তরুণীর। পরদিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ঘটনার দিন সোফিয়াকে বাইকে করে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে হাতুড়ির বাড়ি মেরে খুন করা হয় তাঁকে। পুলিশের দাবি, মৃতার বাবা ও দাদা একটি ফেব্রিকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। খুনের ঘটনায় দিন তরুণীর দাদার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবাও। এবং এই খুনে তিনি সাহায্য করেন।

    জানা যাচ্ছে, মৃত সোফিয়া একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। মাস তিনেক আগে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও তাঁর ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় নজরে আসার পর তাঁকে সতর্ক করেছিল পরিবার। ছেলেদের সঙ্গে মিশতে ও কথাবার্তা বলতে বারণ করেন। সেই ঘটনার পর গত ১২ আগস্ট খুন করা হয় তরুণীকে। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একাধিক ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)