• মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া, অনুদান না নিয়ে শুভেন্দুকে ‘রিটার্ন গিফট’ পুজো উদ্যোক্তাদের
    প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনে সাড়া দিয়ে দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান ১ লক্ষ টাকা করে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল কলকাতার বেশ কিছু বড় পুজো কমিটি। শুধু তাই নয়, রাজডাঙা নব উদয় সংঘ, সুরুচি, সমাজসেবীর মতো নামী পুজোগুলি কৃতজ্ঞতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গ হিসাবে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে ১ লক্ষ টাকা করে ‘রিটার্ন গিফট’ জমা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন জেলার একাধিক বড় পুজো কমিটিও অনুদান না নেওয়ার ঘোষণা করেছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত যে সমস্ত পুজো কমিটির নাম সামনে এসেছে তার মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য- সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা, সন্তোষপুর লেকপল্লি, টালা প্রত্যয়, চোরবাগান সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সংঘ, হাতিবাগান সর্বজনীন, শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনী, বাবুবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব, ফুলবাগান সর্বজনীন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যে সমস্ত পুজো কমিটি এই সরকারি অনুদান নেবে না, তাদের ‘বিশেষভাবে ধন্যবাদ’ জানানো হবে। তবে যাঁরা পুজোর আয়োজনে এই ১ লাখ টাকার সরকারি সাহায্য চান, তাঁরা অবশ্যই স্থানীয় থানা মারফত আবেদন করবেন।

    মিলনমেলায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন করার ঘণ্টা দু’য়েক পরেই মধ্য কলকাতার লেবুতলার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। পুজোর কর্ণধার বিধায়ক সজল ঘোষের কথায়, “আগের সরকারের সময়েও কখনওই অনুদান নিতাম না। টাকা না নেওয়ায় কপালে জুটত পুলিশি হেনস্তা। এবারও নেব না। আমরা বিশ্বাস করি, এই অর্থ গরিবের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-সহ নাগরিক পরিষেবায় ব্যয় হোক।”

    এদিন রাজডাঙা নব উদয় সংঘের চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ জানান, “অনুদান শুধু নেব না তাই নয়, উৎসবের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবে পুজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে আরও এক লাখ টাকা জমা দেবে।” প্রায় একই সুরে নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের পুজোর সম্পাদক বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানিয়েছেন, “গরিমা ও ঐতিহ্য রেখে এবারও চমকে দেওয়ার মতো পুজো হচ্ছে। আর পুজোয় সরকারি অনুদান আমরা শুধু নিচ্ছি না তাই নয়, উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ‘রিটার্ন গিফট’ তুলে দেওয়া হবে।” আবার মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী যে পুজোর চেয়‍্যারম্যান, সেই উত্তর কলকাতার ভূপেন বোস অ্যাভিনিউয়ের শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনীও সরকারি অনুদান নিচ্ছে না।

    বড়দিনের উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে এবারই প্রথম শুরু হওয়া কলকাতা সনাতনী সংঘের মেগাপুজোর সভাপতি শঙ্কুদেব পাণ্ডা জানিয়েছেন, “অনুদানের ১ লক্ষ টাকা চেয়ে আবেদন করছি না। উপরন্তু পুজোর ক’দিন সামাজিক দায়বদ্ধতার নানা কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে সম্পন্ন হবে।” পুজোমণ্ডপে এবং আলোকসজ্জার বিদ্যুতের বিলে ১০০ শতাংশ মকুব, দমকল ও পুরসভা-সহ সমস্ত অনুমতি ‘ফি-ছাড়া’ হবে বলে ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বস্তুত সেই কারণে এদিন কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বহু নামী পুজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল ব্যানার-হোর্ডিং লাগানোর পাশাপাশি একাধিক সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)