দুর্গাপুজোয় মহাভোগের আয়োজন ‘অন্নপূর্ণার রান্নাঘরে’, পঞ্চমী এবং দশমীতেও মেগা শো, অনুষ্ঠান সমুদ্রসৈকত-গঙ্গাবক্ষেও
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার দুর্গোৎসবকে বিশ্বমঞ্চে নতুন ভাবে তুলে ধরতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেনস, দীঘা থেকে কলকাতার গঙ্গার ঘাট। মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ধাপে ধাপে মেগা শো’র মাধ্যমে এক সুতোয়ে জুড়বে দুই এলাকা। এক ছাতার তলায় আসবে গোটা বাংলার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি। মহালয়ার দিনে রেড রোড-ইডেন গার্ডেনসে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পঞ্চমীতে দীঘায় এবং মায়ের বিদায় বেলায় পরের বছর ‘আবার এসো মা’র আহ্বান নিয়ে কলকাতায় গঙ্গাপারে দশমীতেও থাকছে নজরকাড়া মেগা শো।
কলকাতা, দীঘা তার পর ফের কলকাতা। দুর্গা পুজো উপলক্ষে রাজ্যের এই অনুষ্ঠানগুলিতে রোড শো, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ২৩ জেলার লোকসংস্কৃতির খণ্ডচিত্র প্রদর্শন, বিশিষ্ট শিল্পীদের আবাহনীর গান, ড্রোন শো থাকছে। একই সঙ্গে সকলকে চমকে দিয়ে পঞ্চমীর দিন দীঘায় হবে ‘অন্নপূর্ণা রান্নাঘর’ ও ‘মহাভোগ’ কর্মসূচি। যেখানে গোটা রাজ্য থেকে কয়েক হাজার অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রাপকরা যোগ দেবেন দেবী দুর্গার মহাভোগ প্রস্তুতি অনুষ্ঠানে। এখান থেকেই মহাভোগ ছড়িয়ে পড়বে গোটা রাজ্যে। নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে রাজ্যের ভৌগোলিক মানচিত্র ফুটিয়েও তুলবেন তাঁরা। ওইদিনই দুর্গা পুজোকে সামনে রেখে সন্ধ্যায় দীঘা সমুদ্রসৈকতে আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক মহোৎসবের।
নবান্নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহালয়ার আগের দিন ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশেষ ড্রোন শো। আর মহালয়ার দিন রেড রোড এবং ইডেন গার্ডেনসে বর্ণাঢ্য রোড শো ও মহাউদ্বোধনের সাক্ষী থাকবে বাংলার মানুষ। যেখানে মাতৃপক্ষের সূচনায় বেজে উঠবে হাজারে হাজারে ঢাক। উলুধ্বনিতে দেবীপক্ষে ঘরের মেয়ে উমাকে বরণ করবেন বাংলার মা-বোনেরা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের কয়েক হাজার পুজো মণ্ডপও যুক্ত হবে ওই দিনের অনুষ্ঠানে। মহালয়ার এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ফলে দুর্গাপুজোর আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিশিষ্টদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেও নজর রয়েছে সকলের।
নবান্ন সূত্রের খবর, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে গঙ্গার ‘রিভার ফ্রন্টে’ থাকছে চোখ ধাঁধানো আলোর খেলা। আলোর সাজে সাজিয়ে তোলা হবে বিদ্যাসাগর সেতু, হাওড়া ব্রিজ এবং গঙ্গাপার। বিদ্যাসাগর সেতু থেকে বাবুঘাটের মধ্যবর্তী রিভারফ্রন্ট এলাকা জুড়ে হবে এই অনুষ্ঠান। যেখানে প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের নজির গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য। আলোর কারুকাজ, আন্তর্জাতিক মানের আতশবাজি, ড্রোন শো ছাড়াও রাজ্যে এই প্রথম গঙ্গাবক্ষে ভাসমান ট্যাবলো প্রদর্শন, নজির তৈরি করবে। মন ভারাক্রান্ত হওয়া মায়ের বিদায় বেলায় গঙ্গার বুকে আলোর মহোৎসব দিয়েই সূচনা হবে পরের বছর দশভূজার আগমন অপেক্ষার। -ফাইল চিত্র