পরবর্তী নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে না রাজ্যে, শুক্রবার থেকেই বৃষ্টি কমবে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গের উপর সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান ও বঙ্গোপসাগর থেকে বায়ুমণ্ডলের মধ্য ও নীচের স্তরে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করার অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। তাই মঙ্গলবার সারাদিন ধরে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার তুলনামূলকভাবে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে। তবে আজও দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কিছু স্থানের জন্য ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এদিকে শুক্রবার নাগাদ দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, ওই নিম্নচাপটির প্রভাব রাজ্যের উপর বিশেষ পড়বে না। আপাতত এমনটাই মনে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরও শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি অনেক কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে।
যেহেতু বজ্রমেঘ থেকে এই বৃষ্টি হচ্ছে, তাই কোনো কোনো জায়গায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। যেখানে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে সেখানেই বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে ৮৫ মিমি এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ৫৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দমদমে ১৭.৭ মিমি বৃষ্টি হলেও কলকাতা (আলিপুরে) এইসময়ে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ০.১ মিমি। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তার আগের ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরে ১৬.৭ মিমি বৃষ্টি হলেও ওই সময়ে দমদমে মাত্র ০.৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এইসময়ে সবথেকে বেশি বৃষ্টি ৯৫ মিমি হলদিয়ায় হলেও তারপর সেখানে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ০.৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এই প্রবণতা আজ বুধবারও থাকবে। মঙ্গলবার সারাদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে কিছু জায়গায় শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ায় আবহাওয়া দপ্তর ‘লাল’ ও ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলে যে নিম্নচাপটি তৈরি হবে সেটির প্রভাবে প্রথমে দক্ষিণ ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূল এলাকায় বেশি বৃষ্টি হবে। পরে এটির প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে মধ্য ভারতে এবং উত্তরপ্রদেশে। বঙ্গোপসাগরের আগের নিম্নচাপটি এখনো উত্তরপ্রদেশের উপর রয়েছে। তার প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের কিছু অংশে। পরবর্তী নিম্নচাপটির প্রভাব কেটে যাওয়ার পরে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।