বেআইনি টোটো বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপের নির্দেশ হাইকোর্টের
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ‘বেআইনি টোটোর বাড়বাড়ন্তে গোটা রাজ্যের একই অবস্থা!’ মায়াপুর ইসকনের মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি টোটো বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থ মামলায় মন্তব্য করল হাইকোর্ট। ইসকন মন্দিরের আশপাশের বেআইনি টোটো বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশ প্রদানই যথেষ্ট নয়, সেগুলির বাস্তবায়নও জরুরি। জানিয়ে দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, মায়াপুর ইসকনের স্থানীয় প্রশাসনকে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করতে হবে। বেআইনি রিকশ-টোটো নদীয়ার এসপি, স্থানীয় থানার ওসি ও পঞ্চায়েতকে বন্ধ করে দেখাতে হবে। গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে রিপোর্টও চেয়েছে কোর্ট। মামলায় অভিযোগ ছিল, ইসকন মন্দির ধুবুলিয়া মায়াপুর রোডে অবস্থিত। বেআইনি টোটো ও রিকশর দৌরাত্ম্যে পথচলাই দায়। যানজটে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত সমস্যায় পড়ে। কোর্টের আগের নির্দেশও মানা হয়নি। শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট মুখ্যসচিব এক বিজ্ঞপ্তি মারফত জানান, লাইসেন্সবিহীন রিকশ ও টোটো চলবে না। রিকশ চালানো যাবে না জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। বেঞ্চ বলেছে, ‘শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি করে হবে না। বেআইনি টোটো এবং ই-রিকশ কি বন্ধ হয়েছে? সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী, নদীয়া জেলায় ১০,৮০০-র বেশি টোটো চলে। তার মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজারের। সারা রাজ্যেই এই অবস্থা! কী কার্যকরী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা দেখতে চায় আদালত।’ বেঞ্চের সাফ কথা, মায়াপুর বামনপুকুর পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তরের নদীয়া জেলা শাখা, এসপি এবং থানার ওসিকে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ করতে হবে। কারা নথিভুক্ত এবং নথিভুক্ত নয়, এজন্য প্রথমে তা চিহ্নিত করুন। মুখ্যসচিব কিছু করতে পারবেন না। শুধু পেপার ওয়ার্ক করলেই হবে না।’ ৭ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি পুরো জেলায় কার্যকর করতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, দিতে হবে তারও বিস্তারিত রিপোর্ট।