• তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার চাকরি ছেড়ে সাইবার জালিয়াতি! গ্রেপ্তার ১২
    বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তথ্য‌প্রযুক্তি সংস্থার মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে সাইবার প্রতারণার দলে যোগ। আরও একজনের আছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি। সাইবার প্রতারকদের ডিগ্রির বহর দেখে চক্ষু চড়কগাছ চন্দননগর কমিশনারেটের কর্তাদের। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত একাধিক সাইবার প্রতারণা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের হদিশ পায় চন্দননগর কমিশনারেটের সাইবার শাখা। ইতিমধ্যেই চক্রের ১২ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মেধার বহর দেখে বিস্মিত তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারকদের এই গ্যাংয়ের জন্ম হুগলিতে। সদস্যরা অধিকাংশই হুগলি জেলার বাসিন্দা।

    পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চন্দননগর কমিশনারেট এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই সাইবার অপরাধীদের। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা প্রতারণার সঙ্গে ধৃতদের যোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বয়স ২২ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। মূলত, বিভিন্ন প্রলোভন বা ব্যাংক ও আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে লিংক পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিত প্রতারকরা। মঙ্গলবার এ নিয়ে চুঁচুড়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কমিশনারেটের গোয়েন্দা কর্তা রূপান্তর সেনগুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন এসিপি (গোয়েন্দা বিভাগ) সুমন চট্টোপাধ্যায় এবং এডিসিপি (গোয়েন্দা বিভাগ) পার্থ ঘোষ। রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, চন্দননগর কমিশনারেটের টিম সাইবার অপরাধের তদন্তে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। আমরা ১২ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছি। একজনকে আটক করা হয়েছে। বেশ কিছু মোবাইল, সিমকার্ড, প্যান, আধার, ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সাইবার প্রতারণার তদন্তে আরও একটি বিষয় পুলিশের সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারকরা কমিশনের টোপ দিয়ে বহু মানুষের অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিচ্ছে। যা নিয়ে পুলিশ মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি পুলিশ কর্তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এদিকে, মঙ্গলবার বিভিন্ন ব্যাংক এবং পিওএস পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সাইবার অপরাধ নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। কমিশনারেট পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেধাবী তথা প্রযুক্তিতে দক্ষ, এমন লোকজনকে সাইবার অপরাধীরা নিয়োগ করছে। মূলত প্রবীণ ও স্মার্ট ফোন ব্যবহারে দক্ষ নন, এমন ব্যক্তিদের বাছাই করে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে তারা। ভিন্ন ভিন্ন কাজে দক্ষ যুবকদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিল গ্যাংয়ের মাথা। তবে মেধাবীদের একাংশ অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠায় পুলিশের উদ্বেগ বেড়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)