নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত বাঙালির পাতে পড়বে ‘জলের রুপোলি শস্য’ ইলিশ। বিনিময়ে মৎসজীবীদের পেটে ভাত—জীবন বাঁচানোর রসদ। সুন্দরবনের বিদ্যাধরী নদীতে ইলিশের সন্ধানে গিয়েই বাঘের কামড়ে গুরুতর জখম হন মৈপীঠের নগেনাবাদের আজিদ মোল্লা (৩৩)। বাড়িতে স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে জেঠতুতো দাদা ও ভাইপোকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে, যাতে কষ্টেসৃষ্টে হলেও সংসারটা চলে। বিদ্যার কালীবেরা চরে মাছের জাল ঠিক করার সময় পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঘ। ঘাড়ে কামড় বসিয়েছিল। রক্তাক্ত আজিদকে প্রথমে জামতলা হাসপাতাল ও সেখান থেকে পিজি হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ৭ দিন যমে-মানুষে লড়াই। তারপর আজিদের ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপর পিজি’র আবেদনে সাড়া দিয়ে পরিবার আজিদের অঙ্গদানে সম্মত হয়।
মঙ্গলবার আজিদের জেঠতুতো দাদা হাফিজুল মোল্লা বলেন, ‘ভাইকে তো ফিরে পাব না। ডাক্তাররা যখন ব্রেন ডেথ-এর পর অঙ্গদানের আবেদন জানালেন, বড়োদের সঙ্গে আলোচনা করলাম। তাঁরা বললেন, শ্রেষ্ঠ দান জীবনদান। ভাই আরও অসংখ্য মানুষকে নতুন জীবন দেবে। এর থেকে ভালো কিছু হয় না।’ রাতেই আজিদের দু’টি কিডনি, লিভার এবং দু’টি কর্নিয়া দানের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে পিজি সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি এদিন শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালেও ব্রেন ডেথের পর অঙ্গদানের ঘটনা ঘটে। সৌরভ পাল (৩৭) নামে আদি সপ্তগ্রামের বাসিন্দা এক যুবক ১৫ আগস্ট হেমারেজিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে, তারপর পিজি ও শেষে বাইপাসের ধারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। শেষে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সৌরভের দু’টি কিডনির একটি পাবে পিজি। অন্যটি বাইপাসের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল। দু’টি কর্নিয়া খ্যাতনামা একটি চোখের হাসপাতাল সং গ্রহ করছে।