• মায়ের আসা ঘোটকে, গমন নৌকায়, ফল শস্যশ্যামলা বাংলা
    বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাস দেড়েক পর বছরের শ্রেষ্ঠ উৎসবের আঙিনায় পা দেবে বাঙালি। পঞ্জিকা জানিয়েছে, এবার দেবী আসবেন ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায়। ফিরবেন নৌকায়। শাস্ত্রমতে ঘোড়ায় আগমনের অর্থ, ‘ছত্রভঙ্গ’। আর নৌকায় ফেরার অর্থ, ‘শস্য বৃদ্ধি, জল বৃদ্ধি’। এ কথা শোনার পর আপামর বাঙালির জিজ্ঞাসা, ‘সামগ্রিকভাবে কি এবার অস্থিরতাই জিইয়ে থাকবে সর্বত্র?’

    ঘোটকে দেবীর আগমন ও গমন সম্পর্কে শাস্ত্র জানায়, ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, দেবীর ঘোড়ায় আসার অর্থ চারিদিকে অস্থিরতা প্রকট হওয়া। তাঁরা বলেন, ‘অস্থিরতা মানুষ টের পাচ্ছেই। পরিবেশে তার প্রভাব পড়ছে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও বর্ষার ঘাটতি। বন্যা পরিস্থিতিও হয়েছে। অন্যদিকে বহু রাজ্যে বৃষ্টি না হওয়ায় চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। সবমিলিয়ে বেশিরভাগ মানুষ শান্তিতে নেই।’

    সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ এবং গুপ্ত প্রেসের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ জয়ন্ত কুশারীর কথায়, ‘ঘোড়া ছুটলে চারদিকে যে অস্থিরতা থাকে তা প্রকট হবে। অবশ্য দেবী ফিরবেন নৌকায়। এর অর্থ, শস্যবৃদ্ধি। পাশাপাশি জলবৃদ্ধিও। কিন্তু তিনি তো নৌকা নিয়ে চলে যাবেন। দেবী যদি নৌকায় আসতেন তাহলে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারত।’ তবে জয়ন্তবাবুর এটাও সংযোজন, ‘এতটা নিরাশাবাদী না হয়ে আমরা বলতে পারি, যে হেতু দেবী নৌকায় যাচ্ছেন তাই সাময়িক স্বস্তি তো বটেই।’

    এবছর গুপ্ত প্রেসের মতে, সপ্তমী দু’দিন। আর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে ষষ্ঠী দু’দিন। জয়ন্তবাবু জানালেন, শুক্লাপক্ষে সূর্যোদয়ের পরের তি঩থিকেই মান্য করা হয়। গুপ্ত প্রেস অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর, শনিবার সূর্যোদয়ে সপ্তমী থাকবে, আবার পরের দিন অর্থাৎ রবিবার সূর্যোদয়ের পর ১৪ মিনিট থাকবে সপ্তমী। ওই দিন অধিকপুজো। তিনি বলেন, ‘আমরা আপৎকালে সূর্যোদয়ের আগের ২৪ মিনিটকে যোগ করে হিসাব কষতে পারি। এক্ষেত্রে ২৪ ও ১৪ মিনিট মিলে ৩৮ মিনিট পাওয়া যাচ্ছে পুজোর সময়। যেহেতু ৪৮ মিনিটে এক মুহূর্ত হয় তাই তার কম সময় পাওয়ার অর্থ মুহূর্ত ভঙ্গ। এক্ষেত্রে পুর্ণাঙ্গ পুজো সম্ভব নয়। যেহেতু আগের দিনই অহরাত্র বা গোটা দিনই সপ্তমী তিথি পাওয়া যাচ্ছে, তাই সে সময়ই পুজো সম্পন্ন করা উচিত।’ অন্যদিকে পৌরহিত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গুপ্তিপাড়ার শিক্ষক ও সম্পাদক অতনু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সূর্যোদয়ের মিল নেই দিল্লি, মুম্বই বা চেন্নাইয়ে। সেখানে সূর্যোদয় সামান্য পরে। তাই সে জায়গায় শুধু শনিবারই সপ্তমী। রবিবার সূর্যোদয়ের পূর্বেই অষ্টমী পড়ে যাচ্ছে। তা‌ই অষ্টমী পুজো রবিবারই। সেখানে বাংলার মতো সপ্তমীর বিশেষ পুজোর সুযোগ নেই। ঩যেমন মুম্বইতে রবিবার সূর্যোদয় হচ্ছে সকাল ছ’টা ৩৭ মিনিটে। কিন্তু সপ্তমী শেষ হচ্ছে তার আগে ভোর ৫টা ৫২ মিনিটে। তাই রবিবার দিনভরই অষ্টমী। জয়ন্তবাবু এবং অতনুবাবু বলেন, ‘পুণ্যার্থীরা অষ্টমীর অঞ্জলির জন্য খুব কম সময় পাবেন। কারণ সোমবার সকাল ৭টা ২৬ মিনিট থেকে সন্ধিপুজো। তাই সকাল সাতটার মধ্যে শেষ করতে হবে পুষ্পাঞ্জলি। এদিন সকাল ৫টা ৩৯ মিনিটে সূর্যোদয় হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী শুক্লপক্ষে যে তিথিতে সূর্যোদয় হয়, সেই তিথিই গ্রাহ্য। ফলে রবিবার দিনভর অষ্টমী থাকলেও, সূর্যোদয়ের মুহূর্ত পর্যন্ত এ রাজ্যে সপ্তমী তিথিই থাকছে। যেহেতু সোমবার অষ্টমী চলাকালীন সূর্যোদয় হবে, তাই অষ্টমীর পুজো হবে ওই দিনই। অর্থাৎ ভোরবেলা থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে পুষ্পাঞ্জলির।’
  • Link to this news (বর্তমান)