উত্তর দমদমে ব্যবসায়ীকে হুমকি, যুব মোর্চা নেতার ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিজেপির নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবির হবে। সেকারণে উত্তর দমদমের এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছিলেন তাঁরা। শিবির শেষ হওয়ার সাতদিন পর ফের ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা চাওয়া হয়। কেন এত টাকা দিতে হবে, প্রশ্ন করায় ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল উত্তর দমদমের যুব মোর্চার নেতাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা চাঁদার কথা স্বীকার করলেও বিপুল টাকা চাওয়া বা হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত ২৯ ও ৩০ আগস্ট দমদমের এক বেসরকারি স্কুলে বিজেপির জেলা প্রশিক্ষণ শিবির হয়েছিল। তাকে কেন্দ্র করে চাঁদা তোলার একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সোমবার রাতে উত্তর দমদম ২ নম্বর মণ্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি দেবজিৎ দত্তের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। সূত্রের খবর, প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের জন্য উত্তর দমদম পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। অভিযোগ, টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যুব মোর্চার লোকজন। ব্যবসায়ী বলেন, ২৯ আগস্ট দেবজিৎ দলবল নিয়ে এসেছিলেন টাকা চাইতে। সোমবার রাত ৯টা ফের তিনি আসেন ‘তাগাদা’ করতে। কিন্তু শিবির হয়ে যাওয়ার এতদিন পর কেন টাকা চাইছেন, ব্যবসায়ী সেই প্রশ্ন করলে পালটা আক্রমণ করেন যুব মোর্চার লোকজন। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, রীতিমতো শাসানির মুখে পড়েছেন ওই ব্যবসায়ী। যুব মোর্চার নেতা তাঁকে বলছেন, কেন আপনি পুকুর ভরাট করে ব্যবসা করছেন? তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দেন ওই নেতা। এ নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুকুর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ী বলেন, আমি টাকা দেব না। প্রসঙ্গত, রক্তদান সহ বিজেপির নানা কর্মসূচির নাম করে উত্তর দমদমে দেদার চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে যুব মোর্চার নেতা দেবজিৎ দত্ত বলেন, দলের কর্মসূচির জন্য সাহায্য চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চাঁদা না দিয়ে অহেতুক ঝামেলা শুরু করেন। তিনি যে পুকুর ভরাট করেছেন, তা সকলেই জানেন। বিজেপির উত্তর শহরতলির জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, এমন অভিযোগের কথা শুনিনি। তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে দল খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করবে।
ব্যবসায়ী বলেন, বার বার চাঁদা চেয়ে হুমকি দিচ্ছিল। স্থানীয় বিধায়কের পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে ই-মেল করে সবটা জানিয়েছি। স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে কেন? ওরা বলে গিয়েছে, টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেবে।