পুজোর আগেই কলকাতা ৪০টি নামী রেস্তঁরার লাইসেন্স বাতিল
আজকাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত ১ সপ্তাহে কলকাতায় ১৭০টি রেস্তঁরা এবং খাদ্য বিপণিতে অভিযান চালিয়েছে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এই অভিযানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কোথায়ও উদ্ধার হয়েছে বহুদিনে পুরনো মাংস, কোথাও ফ্রিজে রাখা মাংসে পাওয়া গিয়েছে ছত্রাক। কোনওটিতে আবার বিরিয়ানির মশলায় পাওয়া গিয়েছে দেওয়ালের রং। এরপরেই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ৪০টি রেস্তঁরার লাইসেন্স সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
স্মিতা এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জানান, গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর শহরের ৫৯২টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে হোটেল, ক্লাব, রেস্তঁরা সবই রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, গত সাত দিনে শহর কলকাতার ১৬৭টি হোটেল, রেস্তরাঁতে অভিযান চালিয়ে বাসি মাছ, মাংস-সহ প্রায় ১২২৪ কেজি খাবার নষ্ট করা হয়। তবে, এই লাইসেন্স বাতিল সাময়িক বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
পুর প্রশাসক স্মিতা আরও বলেন, "সব জায়গায় ব্যাপকভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। পচা খাবার বন্ধ করতে পুরো টিম কাজ করেছে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ না থাকায় অনেকের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। আগে এত লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হত না। এবার ফ্রি হ্যান্ড নিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, " আমাদের অভিযান হয়েছিল তা খুব ভাল ভাবে হয়েছে। আমরা ঠিক করেছিলাম কোথায় যাব। রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে বাজার সব জায়গায় তল্লাশি করেছি। যা অবাক করার মতোই। আমাদের এই অভিযান থেকে ৪০টা রেস্টুরেন্টের অবস্থা খুব খারাপ। তার মধ্যে অনেক জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ও রয়েছে, যেমন বিহার, সিমলা রেস্টুরেন্ট। এই অভিযান থেকে আমরা বুঝলাম মিষ্টির দোকানগুলি আরও পরিষ্কার থাকা উচিত। আমাদের যে পরীক্ষা ছিল তাতে এই রেস্টুরেন্টগুলি ফেল করেছে। এদের লাইসেন্স আপাতত সাসপেন্ড, পুরো বাতিল করা হচ্ছে না। যত তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্ট, মিষ্ঠির দোকানগুলি তাদের ঠিক করবে আমরা রিচেক করব, তারপর সাপেন্ডেড তুলব।"
পুরসভা-প্রদত্ত যে সব রেস্তঁরা-মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স আপাতত বাতিল করা হয়েছে সেগুলি হল, গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং, দুর্গা প্রসাদ চৌরাসিয়া, মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি, শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, জেপ্টো লিমিটেড, শ্রী ব্রজরাজ, বলরাম মল্লিক অ্যান্ড রাধারামণ মল্লিক, মা কালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, শ্যামা সুইটস, এসএস এন্টারপ্রাইজেস, মনোজ কুমার শাহ, কে. পি. সিংহ ইউপি ওয়ালা, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেড, এশিয়া হাউস, কারি পাতা, ভোলানাথ শ্রীমণি অভিজাত মিষ্টান্ন বিক্রেতা, মাতৃ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, হোলা (আদিরা রেস্তোরাঁ এলএলপি-র একটি ইউনিট), দ্য নিউ পৌষী সুইটস, শীতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মহাপ্রভু মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, গোল্ডেন গেট, ইএফএফ এন বি মার্কেটিং লিমিটেড (চাইগ্রাম), দাদা বৌদি হোটেল (রাজা রামমোহন সরণি), নিউ রাজলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, ডেনজং কিচেন, সাফিয়া হোটেল, পাণ্ডে ধাবা, ডন জিওভান্নিস, করিম’স (রিপন স্ট্রিট), মা অভয়া সুইটস, শ্রীমা সুইটস, গোবিন্দর মিষ্টি, গঙ্গা, আহমদ আলি, জাকির হোসেন এবং মো. শাহনাওয়াজ, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, মিস্ট অ্যান্ড মোরসেলস, শক্তি মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মিঠাই ভাণ্ডার
গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের নানা জায়গায় হানা দিচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। একাধিক জায়গায় নিয়ম লঙ্ঘনের ছবি সামনে এসেছে। কোথাও টম্যাটো সসে ভেজাল, তো কোথাও রান্নার জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দপ্তরের তরফে এক্স হ্যান্ডলে একটি টুইটে জানানো হয়েছে, “খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর বিশেষ খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে নজরদারি চালাচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেরে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান চলেছে। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭০৪টি জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৭৩টি জায়গায় গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে। ২৪০৭টি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ৭৯টি জায়গায় বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে ৩১টি জায়গার। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৬৪টি জায়গায় এবং ২৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কাজ শুরু হয়েছে।”