মিল্টন সেন, হুগলি: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর মিলেছিল নাম করা মাল্টিন্যাশনাল আইটি কোম্পানির চাকরি। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে সাইবার প্রতারণায় যুক্ত হন একাধিক যুবক। প্রতারণার জাল ছড়ায় রাজ্য তথা সারা দেশজুড়ে। সন্দেহ হওয়ায় তদন্ত শুরু করেন চন্দননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। অবশেষ সাইবার গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ল ১২ জন অভিযুক্ত। ধৃতদের বয়স ২২ থেকে ৪৫ বছর।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরপাড়ার এক যুবক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করে নামজাদা মাল্টিন্যাশনাল আইটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে সাইবার প্রতারণায় হাত পাকানো শুরু করেন। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড, চেকবই, ব্যাঙ্কের পাশবই, তিনটে মোবাইল, সাতটি সিমকার্ড উদ্ধার হয়েছে। অভিযুক্তরা গোটা দেশে বিভিন্ন রাজ্যে সাইবার প্রতারণা করতেন বলে জানি গিয়েছে। সেই অভিযোগ আসার পরই তদন্ত শুরু করে চন্দননগর পুলিশের সাইবার থানা।
ডিসি ডিডি রূপান্তর সেনগুপ্ত জানান, যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বাড়ি বিভিন্ন জায়গায়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম আমরা জানাচ্ছি না এখনই। তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলাদা পরিচয় ছিল, আবার কয়েকজনের ক্ষেত্রে সেটা নয়। তবে তাদের অপরাধের কৌশলটা একই রকম। কখনও হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে লিঙ্ক পাঠিয়ে সেটার মাধ্যমে প্রতারণা। আবার কাউকে উপকারের অছিলায় প্রতারণা চলে। কিছুটা জামতারা গ্যাং স্টাইলে এই প্রতারণা চক্রে আরও বহু লোক যুক্ত থাকতে পারে। যেহেতু এদের নেটওয়ার্ক গোটা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে তাই পুরো গ্যাংকে ধরা সময় সাপেক্ষ। ঠিক কতজনের থেকে কত টাকা প্রতারণা করেছে প্রতারকরা, সমস্ত অভিযোগ এখনও পর্যন্ত দায়ের হয়নি।
মানুষকে বারবার সচেতন করা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ভাবেই যেন এদের ফাঁদে পা না দেওয়া হয়। কোনও অপরিচিত লোককে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না বলেও সতর্ক করেছেন ডিসি ডিডি।