মিল্টন সেন, হুগলি: চুঁচুড়ার নামী চিকিৎসকের নার্সিংহোমে চরম অব্যবস্থা। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নেই অগ্নিনির্বাপণের অনুমোদন। নার্সিংহোমের বাইরের অংশ ঝাঁ চকচকে। দেখে বড় হাসপাতাল ভেবে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সারপ্রাইজ ভিজিটে উঠে এল আসল চিত্র।
সেই নার্সিংহোমে মানা হচ্ছে না ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট। অব্যবস্থা খতিয়ে দেখে আপাতত নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা মুখ্য আধিকারিক ডাঃ মৃগাঙ্ক মৌলি কর।
সোমবার রাতে হঠাৎ পুলিশ এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে চুচুঁড়া বড়বাজারের স্পর্শ নার্সিংহোম পরিদর্শনে যান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। পরিদর্শনে উঠে আসে একাধিক খামতি। দেখা যায় নার্সিংহোমে তখন চারজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী পরিদর্শনের সময় নার্সিংহোমে একজন আরএমও থাকলেও, ছিল না কোনও ট্রেন্ড নার্সিং স্টাফ। নজরে পড়েনি কোনও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টেনোলজিস্ট। ডায়ালিসিস ইউনিটে ছিল না কোনও টেকনিশিয়ান। সব থেকে বিপদজনক বিষয়, নার্সিং হোমের কোনও অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থার অনুমোদন বা ফায়ার লাইসেন্স তাঁদের দেখাতে পারেনি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও সিসিইউ ইউনিটে ঢোকার মুখে কোনও স্টেরিলাইজেশান জোন নেই। সব কিছু দেখার পর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে আপাতত নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ মৃগাঙ্ক মৌলি কর জানিয়েছেন, ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নার্সিংহোম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একাধিক খামতি স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নজরে পড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে নার্সিংহোমের পরিকাঠামো বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে কোনও রোগী ভর্তি নেওয়া যাবে না।