আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর আগেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। 'পাখির চোখ' করে নন্দীগ্রামে সাংগঠনিক বৈঠকে বিজেপি। পুজোর আগেই নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে নন্দীগ্রামকে পাখির চোখ করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে দলের পক্ষ থেকে হল সাংগঠনিক বৈঠক। বিশেষ করে নন্দীগ্রামকে পাখির চোখ করে মাঠে নেমে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রস্তুতিতে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করল বিজেপি। নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া বিধায়ক কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসাল, নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক তথা সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা-সহ একাধিক বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল উপনির্বাচনের আগে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা। কোথায় সংগঠনের ঘাটতি রয়েছে, কোন এলাকায় কীভাবে কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে, প্রচারে কোন বিষয়গুলিকে সামনে রাখা হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটের দিন পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নন্দীগ্রাম বিজেপির কাছে যে শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, তা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেই স্পষ্ট। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকেই মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে জয় পান শুভেন্দু। একইসঙ্গে ভবানীপুর থেকেও জয়ী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে এই উপনির্বাচন।
ফলে উপনির্বাচন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। বিজেপির কাছে এই কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখার লড়াই যেমন, তেমনই বিরোধীদের কাছেও নন্দীগ্রাম পুনর্দখলের পরীক্ষা। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও মঙ্গলবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। যদিও প্রার্থী নিয়ে বিজেপির কোনও নেতা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় সংগঠন, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটের অঙ্ক একাধিক বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
হাতে সময় কার্যত এক মাসেরও কম। পুজোর ঠিক আগে ভোট এবং তার কয়েকদিনের মধ্যেই ফল। সেই কারণে সময় নষ্ট না করে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই সংগঠনকে দ্রুত নির্বাচনী মোডে নিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি।