আজকাল ওয়েবডেস্ক: যে বিপদের আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন, এবার সেই বিপদের মুখোমুখি মালদার বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জি। গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় প্লাবিত তাঁর বসতভিটা। বর্তমানে নিজের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। শুধু বিধায়কের বাড়িই নয়, গঙ্গা ও ফুলহারের জলস্ফীতিতে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলবন্দি প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই গঙ্গা ও ফুলহার নদী একে অপরের কাছাকাছি চলে আসার আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন সমর মুখার্জি। তাঁর দাবি, কয়েক বছর আগে তাঁর বাড়ি থেকে গঙ্গা নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ফুলহার নদীও ছিল বেশ দূরে। কিন্তু বর্তমানে দুই নদীর মধ্যে দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০০ মিটারে। ফলে আগামী দিনে দুই নদীর জলধারা একসঙ্গে মিশে গেলে মালদার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
ইতিমধ্যেই গঙ্গা ও ফুলহারের জল বেড়ে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩০টি গ্রামের বাসিন্দারা জলবন্দি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিদিনই জলস্তর বাড়ছে। টানা আট দিন ধরে জলবন্দি তাঁরা। এমন পরিস্থিতি অতীতে কখনও দেখেননি বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন্যার জেরে জলমগ্ন মহানন্দাটোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে ১৫ হাজার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে রয়েছেন দুই জন চিকিৎসক, চার জন নার্স এবং চার জন গ্রুপ-ডি কর্মী। ১০ শয্যার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মূলত প্রসূতি মহিলাদের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু জল ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
জল পেরিয়ে নৌকায় করে কিছু রোগী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলেও জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্যান্য পরিষেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক মহঃ আবু সারোয়ার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যথেষ্ট কঠিন। রয়েছে সাপের আতঙ্কও। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সমস্যাও।
জল বেশি থাকা এলাকায় নৌকায় করে রোগীদের বাড়িতে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নৌকায় করে রোগীর বাড়িতেও পৌঁছে যাচ্ছেন।
জলের তলায় চলে গিয়েছে মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরও। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দফতরের স্বাভাবিক কাজকর্ম। স্থানীয় বাসিন্দা জনক মণ্ডল ও শঙ্কর মণ্ডলদের অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় এক বিঘা করে এলাকা জলের কবলে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলবন্দি থাকার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার জলস্তর প্রায় তিন ফুট বেড়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মালদার মানিকচকের ভুতনি থানা জলমগ্ন। ভুতনি হাসপাতালেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পিডবোটে চলছে পুলিশের টহলদারি।
ভুতনি হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছেন জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নারায়ণ ঝা এবং মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভীক শংকর কুমার। গঙ্গা ও ফুলহারের জলস্তর যেভাবে বাড়ছে, তাতে মালদার বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।