আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাকরি পাওয়ার আশায় টাকা? সরকারি দপ্তরে নিয়োগের নামে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে এবার দুর্নীতি দমন শাখার (Anti-Corruption Branch বা ACB) জালে ধরা পড়ল এক মধ্যস্থতাকারী। শুধু দালাল নয়, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর সহানুভূতিশীলতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন এক ব্যক্তি। সেই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি পৌঁছয় পশ্চিমবঙ্গ এসিবি-র কাছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন আধিকারিকরা। তদন্তে সরকারি আধিকারিকের তরফে ঘুষ দাবি করার বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ হাতে আসে বলে জানা গিয়েছে। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরতে পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতে এসিবি।
নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুষের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেই টাকা গ্রহণের সময়ই এক মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্টকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। ঘুষের জন্য যে টাকা দেওয়া হয়েছিল সেগুলিতে লাগানো ছিল বিশেষ রাসায়নিক। তদন্তকারীরা ওই দালালকে ধরতেই তাঁর হাত জল দিয়ে ধোঁয়ানো হয়। হাত ধুতে ধুতেই জল বেগুনি রঙের হয়ে যায়। এরপরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে Mass Education Extension & Library Services Department-এর এক সহকারীকেও। অভিযোগের নেপথ্যে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং তার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, সরকারি দফতরের ভিতর থেকে আর কারও ভূমিকা ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি পরিষেবা বা গুরুত্বপূর্ণ নথি পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল এসিবি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার জন্য ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, রিপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার বিনিময়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই টাকা নেওয়ার সময়ই এসিবি-র ফাঁদে ধরা পড়েন ওই কর্মী।