শহরের ৯১৯টি হোটেলকে বন্ধের নোটিস কলকাতা পুরসভার, কেন
আজকাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিকে ঘিরে বড়সড় কড়া পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার। গত সোমবার পর্যন্ত শহরের ৯৬০টি হোটেল এবং গেস্ট হাউসে সমীক্ষা চালিয়েছে পুরসভা। এরপরে ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পাঠানো হয়েছে। মূলত অগ্নিনিরাপত্তা, বিল্ডিংয়ের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। পুরসভা সূত্রে ইঙ্গিত, নোটিস দেওয়ার পরেও প্রয়োজনীয় নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট হোটেল বা গেস্ট হাউসের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ হতে পারে।
সম্প্রতি কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর থেকেই শহরের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপরই একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে পুরসভা ও দমকলের যৌথ পরিদর্শন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিসও দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার নজরে এসেছে, শহরের বেশ কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস এমন ভবনে চলছে, যার অনুমোদিত ব্যবহার হোটেল হিসেবে নয়। কোথাও আবার প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট নেই, কোথাও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও অনুমোদিত লোড অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। পুরসভার তরফে শহরের বিভিন্ন বরোয় পরিদর্শনের জন্য বিশেষ দলও তৈরি করা হয়েছে। সেই দলগুলির সঙ্গে দমকল এবং বিদ্যুৎ সংস্থার প্রতিনিধিরাও থাকছেন। ভবনের অনুমোদিত নকশা, ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতায় পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। শহরের হোটেলগুলিতে তখন ব্যাপক ভিড় থাকে। ফলে কোনও হোটেল বা গেস্ট হাউসে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই পুজোর আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুরসভার এই অভিযান। তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, আচমকা বন্ধের নির্দেশে তাঁদের পাশাপাশি হোটেলের কর্মীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ফের পরীক্ষা করতে শুরু করেছেন।