যাদবপুর থেকে হোটেল কাণ্ড—কাদের নিশানা করলেন দিলীপ?
আজকাল | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিদিনের অভ্যাসমতো বুধবারের সকালেও প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চেনা মেজাজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কলকাতার সাম্প্রতিক খাদ্য ও হোটেল ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে পুজোর মুখে ভাঙাচোরা রাস্তা সারাই এবং যাদবপুর কেন্দ্রিক রাজনীতি—একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুতে খোলাখুলি নিজের মতামত জানালেন তিনি।
কলকাতার ৪০টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে উস্কে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকেই এবার সরব হয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে। তাঁর দাবি, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে নানা ধরনের অনিয়ম ও বেআইনি কারবার নিয়ে বারবার অভিযোগ এলেও আগে কখনো তা সমাধানের চেষ্টা হয়নি। মানুষ খাদ্যের মান নিয়ে সচেতন না হওয়ায় স্বাস্থ্যহানি ঘটছে, অথচ রাজ্যে সঠিক চিকিৎসার ভরসাও অমিল। আগের সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই এর জন্য কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
পুজোর আগে শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের ভোগান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। দিলীপবাবুর বক্তব্য, পুজোয় বাইরে থেকে অগুনতি মানুষ কলকাতায় আসেন, এতগুলো জায়গা বন্ধ থাকলে তাঁরা থাকবেন কোথায়? তবে হোটেল মালিকদের প্রতি তাঁর সাফ বার্তা, নিয়ম মেনে পরিকাঠামো দ্রুত ঠিক করে সরকারের কাছে লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন জানানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গত এক দশকে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যেখানে-সেখানে হোটেল গজিয়ে উঠেছে। এমনকি মন্দারমণিতে সমুদ্রের পাড় দখল করে হোটেল তৈরির উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, প্রকৃতির ক্ষতি করে এভাবে ব্যবসা চালালে সিকিম বা নেপালের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে বাংলাকেও।
পুজোর আগে ভাঙা রাস্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ মেটাতে মধ্যরাতে আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মেরামতের কাজ প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পূর্ত দপ্তরকে ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন এবং পঞ্চায়েত স্তর থেকেও রাস্তা সারাইয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যেই রাজ্যের সব রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে যাদবপুরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, যে শহর দুটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনার সাক্ষী, সেই শহরের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাঙ্গণে ভারতবিরোধী স্লোগান ওঠা বাংলার জন্য বড় কলঙ্ক। কিছু অপরিণত ছাত্রছাত্রীকে ভুল বুঝিয়ে দেশের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কাজ করানো হয়েছে, যদিও পরবর্তীকালে অনেকেই এসব ভুলে নিজেদের কেরিয়ার গড়ে নিয়েছেন। তাঁর মতে, গোটা দেশে যখন জাতীয়তাবাদী মনোভাব জোরদার হচ্ছে, তখন যাদবপুর থেকেও বিচ্ছিন্নতাবাদী কথার বদলে রাষ্ট্রবাদী স্বর ওঠা দরকার, আর সমাজে সেই ইতিবাচক বাতাবরণ ফিরিয়ে আনতেই এই ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে।