শুভাশিসদের মধ্যে তাগিদের অভাব ছিল, ইস্ট বেঙ্গলের লড়াই দেখাল, বাংলার ফুটবল শেষ হয়নি
বর্তমান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেবজিৎ ঘোষ: কারা যেন বলেন, বাঙালি ফুটবল ভুলতে বসেছে? ময়দানে ভূমিপুত্র নেই বলে মড়াকান্না কাঁদতে দেখেছি অনেককেই। পান থেকে চুন খসলে সমালোচনার শেষ নেই। সোমবারের পর সেই সমালোচকদের মুখগুলো দেখতে চাই। স্রেফ ভূমিপুত্রদের উপর ভরসা রেখেই ঘরোয়া লিগের ডার্বিতে দাপট দেখাল ইস্ট বেঙ্গল। তারকাখচিত মোহন বাগানের বিরুদ্ধে অঙ্কিত, মনোতোষ, তন্ময়দের লড়াই অবশ্যই প্রশংসনীয়। হ্যাটস অব টু দেম। ম্যাচ হয়তো ১-১। তবে মন জিতেছে লাল-হলুদ ব্রিগেডই। ব্যক্তিগত মত, আইএসএল খেলা তারকাদের চেয়ে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই তন্ময়রা। স্রেফ একটু সুযোগ পেলে এই ছেলেরাই আগুন জ্বালতে পারে। ইস্ট বেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্টকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। বড়ো ম্যাচে সিনিয়র দলের ফুটবলার না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিতে সাহস দরকার। আকাশ, বিজয়, গৌরবরা তাদের হতাশ করেনি। বরং এই লড়াকু স্পিরিটই ট্রেন্ড হয়ে থাকুক ময়দানে।
ডুরান্ড কাপ ফাইনালে চিরপ্রতিন্দ্বীকে ৪-১ গোলে পরাস্ত করেছিল হাবাস ব্রিগেড। তাই ঘরোয়া লিগের ডার্বি ঘিরে কৌতূহল ছিলই। ম্যাচের আগে একঝাঁক সিনিয়র ফুটবলারকে নথিভুক্ত করে মোহন বাগান। তাতে হাইপ তুঙ্গে পৌঁছায়। বড়ো ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন মোহন বাগান সমর্থকরা। কিন্তু ৩ পয়েন্ট দূরের কথা, সাহালদের পারফরম্যান্সে লজ্জার একশেষ। কীভাবে প্রতিপক্ষকে বেহাল করল মশালবাহিনী? তা বোঝার জন্য অতিরিক্ত বুদ্ধিমান হওয়া নিষ্প্রয়োজন। ফুটবল আসলে বিজ্ঞান। গত কয়েক মরশুম যুব দল নিয়ে দারুণ কাজ করেছে ইস্ট বেঙ্গল। বিষ্ণু, জেসিন, বিলালদের তুলে আনা তারই ফসল। সিস্টেম ঠিক থাকলে সুফল মিলবেই। অর্চিষ্মান বিশ্বাসকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ডার্বিতে বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে টেকনিক্যাল বদল আনল ইস্ট বেঙ্গলের থিঙ্কট্যাঙ্ক। ডিফেন্স, মাঝমাঠ ও স্ট্রাইকারদের মধ্যে গ্যাপ কমিয়ে প্রতিপক্ষের চোখে সর্ষেফুল দেখায় তারা। বিজয় মুর্মু, জয় বাজ, বিক্রম প্রধানদের মস্তিষ্কে লড়াইয়ের চিপ ভরে দিয়েছেন কোচিং স্টাফেরা। লাল-হলুদ জার্সির তেজ তো রয়েইছে। আকাশ, বিজয়রা ভবিষ্যতে ময়দান কাঁপালে অবাক হওয়ার থাকবে না। আলাদা করে বলতেই হয় অঙ্কন ভট্টাচার্যের কথা। ইউনাইটেড স্পোর্টসে লালকমলরা চাকদা থেকে তুলে এনেছিল ওকে। অঙ্কন লম্বা রেসের ঘোড়া। যেভাবে মনবীরদের শরীরে ঢুকে ট্যাকল করল তাকে শাবাশি জানাতেই হয়। চিফ কোচ হাবাসের নিশ্চয়ই তা নজর এড়ায়নি। একটাই অনুরোধ, সুপার সিক্সে ফোকাস যেন না হারায় অঙ্কনরা। চ্যাম্পিয়ন হলেই মধুর সমাপ্তি হবে। পক্ষান্তরে, মোহন বাগান গ্রাসরুটে পিছিয়ে। দীপ্যেন্দু বিশ্বাসকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত অর্থহীন। বঙ্গসন্তানকে আগলে রাখা উচিত ছিল। ডার্বির পর কোচ বাস্তব রায়কে শূলে চড়াচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু সবকিছু বাস্তবের হাতে ছিল কি? সন্দেহ থেকেই যায়। সাহাল, শুভাশিসদের মধ্যে তাগিদের অভাব ছিল। আসলে ফুটবল নামে হয় না। মাঠে খেলে জবাব দিতে হয়। মোহন বাগান ম্যানেজমেন্ট তা যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ততই মঙ্গল।