• কারও সঙ্গে অশান্তি ছিল না, ‘ভালো মানুষ ছিলেন…’, দিল্লিতে মণিপুরের সঙ্গীতশিল্পীকে পিটিয়ে খুনের পরে কী জানালেন সহকর্মীরা?
    এই সময় | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বাড়ির বাইরে দিনরাত ধাবার কর্মীদের চিৎকার, মদ্যপায়ীদের হইচই লেগে থাকত। তাতে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁদের একটু আস্তে কথা বলতে বলেছিলেন। এটাই ছিল অপরাধ। আর তাতেই রেগে গিয়ে মণিপুরের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী চংথাং বিক্রম সিংকে (৫৪) পিটিয়ে খুন করা হয়। রবিবার মধ্যরাতে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকরি গ্রামের এই ঘটনায় সোমবার মৃত্যু হয় চংথাং বিক্রম সিংয়ের। ব্যক্তিগত জীবনে কেমন ছিলেন তিনি?

    ইম্ফল পশ্চিম জেলার লউরুং পুরেল লেইকাই-এ বিক্রমের আদি বাড়ি। মা চংথাং কমলা এবং বাবা চংথাং বীরেন্দ্রর জ্যেষ্ঠপুত্র তিনি। বাড়িতে বরাবরই সঙ্গীত সাধনার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল। বিক্রমের মা কমলা মণিপুরী সঙ্গীত জগতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। মণিপুরের বেতার সংস্থায় নিয়মিত গান গাওয়ার পাশাপাশি একাধিক মণিপুরী সিনেমায় গান গেয়েছেন তিনি। তাঁর সুরেলা কণ্ঠের জন্য তাঁকে অনেকে ‘মণিপুরের লতা মঙ্গেশকর’ও বলেন।

    এ হেন পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা বিক্রমের মণিপুরের ট্র্যাডিশনাল সঙ্গীতের থেকেও ওয়েস্টার্ন রক মিউজ়িকে বেশি আগ্রহ ছিল। সেই কারণেই সঙ্গীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলতে হাতে তুলে নেন ইলেকট্রিক গিটার। অল ইন্ডিয়া রেডিয়োতে তাঁর মায়ের যোগাযোগ থাকার কারণে মণিপুরের বহু প্রখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরবর্তীকালে বিখ্যাত গিটারিস্ট সচ্চিদানন্দ আঙ্গম, লোক সঙ্গীতশিল্পী মামে খান-সহ একাধিক প্রখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন বিক্রম। প্রত্যেকেই এক কথায় বলেছেন, ‘বিক্রমের সঙ্গে কারও অশান্তি ছিল না।’ তাঁদের সংযোজন, ‘উনি অত্যন্ত দয়ালু, ভালো মানুষ ছিলেন।’

    বিক্রমের স্মৃতির উদ্দেশে মঙ্গলবার ইম্ফলের কাংলা দুর্গে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন। বিক্রমের পরিবার, তাঁর সহকর্মীরা উপস্থিত হন জমায়েতে। গিটারিস্ট সচ্চিদানন্দ আঙ্গম বলেছেন, ‘স্টুডিওতে ‘ইম্ফল টকিজ় অ্যালবামের একাধিক গান রেকর্ড করার জন্য প্রায় আসতেন বিক্রম। আমরা মাঝেমধ্যেই জ্যামিং সেশন করতাম। ভালো গিটারিস্ট এবং সর্বোপরি খুব ভালো একজন মানুষ ছিলেন তিনি। ঘরের মধ্যে ওঁর উপস্থিতি ছিল উজ্জ্বল।’

    দিল্লিতে একটি মিউজ়িক স্কুলে গিটার শেখাতেন বিক্রম। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় ক্ল্যাসিকাল গিটারিস্ট তেজ গুরুংয়ের। তিনি বলেছেন, ‘উনি (বিক্রম) অত্যন্ত ভালো মানুষ। দুর্দান্ত গিটারিস্ট ছিলেন। তাঁর কাজের জন্য গোটা মণিপুরে বিখ্যাত ছিলেন।’ লোক সঙ্গীতশিল্পী মামে খান বলেছেন, ‘বিক্রমের চলে যাওয়া হৃদয় বিদারক। অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমার সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন। একসঙ্গে বহু কাজ করেছি আমরা।’

    ক্লাস টেন পাশ করার পরে মণিপুরের বিখ্যাত ব্যান্ড Ultra Vires-এ গিটার বাজানো শুরু করেন বিক্রম। পরবর্তীকালে কলকাতায় ট্রিনিটি মিউজ়িক স্কুলে ক্ল্যাসিকাল গিটারের ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। পরে Phoenix, Eastern Dark-সহ একাধিক ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি, বেশ কিছু মিউজ়িক স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

    বিক্রমের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, অন্যান্য মিউজ়িশিয়ানদের মতো শিক্ষকতা করা তাঁর কাছে পার্ট টাইম পেশা নয়। বরং অল্পবয়সি মিউজ়িশিয়ানদের বরাবরই সাহায্য করতে চাইতেন বিক্রম। তাঁর এই অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সকলেই।

  • Link to this news (এই সময়)