মহম্মদ মহসিন, উলুবেড়িয়া
সরকারের আপত্তি থাকায় দীর্ঘ আট বছর ধরে যাত্রীভাড়া বাড়েনি। কিন্তু জ্বালানি খরচ ও যন্ত্রপাতির দাম ফি–বছর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে হুগলি নদীতে লঞ্চ চালাতে গিয়ে আয়ের তুলনায় খরচ বেড়ে গিয়েছে। তাতে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি। ভাড়া শূন্য হয়ে যাওয়ায় সংস্থার দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। টাকার অভাবে কেনা যাচ্ছে না নতুন ভেসেল।
মেরামত করার টাকাও জোগাড় হচ্ছে না। আটকে থাকছে কর্মীদের বেতন ও অবসরকালীন পাওনা–গণ্ডা। ফেরিঘাটের লিজের টাকাও দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে থাকছে। লিজের টাকা দিতে না পারায় হুগলি নদী জলপথ সমবায় সমিতিকে সম্প্রতি নোটিস ধরিয়েছে হাওড়া জেলা পরিষদ। ফলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কিত সংস্থার সাধারণ কর্মীরা।
হুগলি নদীতে মোট সাতটি রুটে লঞ্চ পরিষেবা দিয়ে থাকে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি। তার জন্য বিভিন্ন ফেরিঘাট লিজ নেওয়া আছে। হাওড়া শহর এলাকায় যে সব ফেরিঘাট রয়েছে, সেগুলির মালিক কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় যতগুলো ফেরিঘাট রয়েছে, সেগুলির মালিক আবার হাওড়া জেলা পরিষদ। ফেরিঘাট ব্যবহারের জন্য প্রতি বছর মোটা টাকা ভাড়া গুণতে হয় হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতিকে।
কিন্তু অর্থাভাবে সেই টাকাও মেটাতে পারছে না তারা। ফেরিঘাটের লিজ বাবদ হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাওনা আছে হাওড়া জেলা পরিষদের। সেই টাকা আদায় করতে সম্প্রতি জেলা পরিষদের তরফে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়। টাকা না দিলে লিজ বাতিল করার হুঁশিয়ারিও দেয় তারা। তাতে যাত্রীরা অসুবিধায় পড়তে পারেন ভেবে শেষ পর্যন্ত তার উপরে হস্তক্ষেপ করে জেলা প্রশাসন। দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। বৈঠকে ঠিক হয়, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি প্রথমে হাওড়া জেলা পরিষদকে এক লক্ষ টাকা দেবে, তারপরে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে মেটাবে।
হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তুষার ঘোষ বলেন, ‘হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি বাউড়িয়া এবং গাদিয়াড়া ফেরিঘাটের লিজ নিয়েছিল হাওড়া জেলা পরিষদের কাছ থেকে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা লিজের টাকা দিচ্ছিল না। সেজন্য তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আপাতত তাদের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া হয়েছে আমাদের। ধাপে ধাপে তারা টাকা িমটিয়ে দেবে বলেছে।’
হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির এক আধিকারিক জানান, হাওড়া জেলা পরিষদের থেকেও কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের কাছে আরও অনেক বেশি টাকা বকেয়া রয়েছে। ধারদেনা টাকা মিটিয়ে সংস্থাকে চাঙ্গা করতে হলে যাত্রীভাড়া বাড়ানো ছাড়াও আর কোনও বিকল্প রাস্তা নেই।
সমবায় সমিতির অন্যতম কর্তা দুলাল ভট্টাচার্য বলেন, ‘২০১৮ সালের পর থেকে আর বাড়া বাড়েনি। শেষ ভাড়া বেড়েছিল ১ টাকা। গঙ্গার নীচে দিয়ে হাওড়া পর্যন্ত মেট্রো চালু হওয়ার পরে লঞ্চে যাত্রী অনেকটাই কমেছে। ফলে আয় তলানিতে এসে ঠেকেছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে তেলের দাম অনেকটাই বেড়েছে। ফলে আয়–ব্যায়ের মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য থাকছে না।’