এই সময়, শ্রীরামপুর: আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ডানকুনি পুরসভার দুই প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা সূর্য দে এবং কবিরুল আলমকে গ্রেপ্তার করল ডানকুনি থানার পুলিশ। শম্ভু সাউ নামে আরও এক তৃণমূল কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
যদিও গোটা ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছে কালীঘাট তৃণমূল। তৃণমূল নেকতাদের দাবি, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামপুরে পদযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার আগে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাপে রাখতেই পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, বছর তিনেক আগে ডানকুনির এক রাজমিস্ত্রি ডানকুনি পুরসভায় আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার জন্য খোঁজখবর নিতে যান। ওই সময় ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনমের ঘরে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার কবিরুল আলম, সূর্য্য দে ও শম্ভুনাথ সাউ সেই রাজমিস্ত্রির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ। সেই সময় ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা। সেই রাজমিস্ত্রি গত সোমবার ডানকুনি থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
যদিও এ দিন আদালতে ধৃতদের আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় জানান, পুরোটাই মিথ্যে অভিযোগ। কোনও অভিযোগ হলে তার প্রাথমিক তদন্ত করে পুলিশকে এফআইআর করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে পুলিশ আইন মেনে কাজ করেনি। এটা রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামপুরে আসছেন। সেই কর্মসূচি ভণ্ডুল করতেই ব্লক ধরে ধরে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ দিন শ্রীরামপুর আদালত চত্বরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ দেখান। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারি ও পুলিশি পুলিশি সন্ত্রাস নিয়ে সরব হয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিয়ো বার্তায় এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, 'আপনার ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করুন। সারা ভারতবর্ষের লোক দেখবে।'
এরপরেই নিজের প্রাক্তন জামাই তথা বিজেপি নেতা কবীর শঙ্কর বসুর নাম না করে কল্যাণ বলেন, 'একটা আবর্জনা, যেখান থেকে পচা গন্ধ বেরোচ্ছে। দু'বার শ্রীরামপুর ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল।' মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'আসলে আপনি একজন প্রতিহিংসাপরায়ণ লোক। আমি ভেবেছিলাম, আপনি মানুষ হিসেবে ভালো হবেন। কিন্তু দেখলাম, আপনি গুন্ডাগিরি করছেন। পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখালে হবে না। আমি একা হাঁটব। আমাকে অ্যারেস্ট করে দেখান।'