রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব থেকে জটিল সূত্র তাঁর ঠোঁটস্থ। কেমিস্ট্রিতে অসামান্য কৃতিত্বের কারণে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করেছে সরকার। কিন্তু SIR-এর আতসকাচে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়েই উঠে গেল প্রশ্ন। কর্নাটকে ভোটার তালিকা সংশোধনের Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ায় এ বার নামের বানান নিয়ে বিপাকে পড়লেন দেশের অন্যতম বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং ভারতরত্নপ্রাপ্ত প্রফেসর সিএনআর রাও। ভোটার তালিকায় তাঁর নামের মাঝে একটি অতিরিক্ত ‘F’ অক্ষর যুক্ত হওয়ায় ‘self-name mismatch’-এর ভিত্তিতে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পুরোনো ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে ‘Prof CNR Rao’। কিন্তু সংশোধিত তালিকায় সেটি হয়ে গিয়েছে ‘Proff CNR Rao’—অর্থাৎ ‘Prof’-এর শেষে একটি অতিরিক্ত ‘f’ ঢুকে গিয়েছে। এই সামান্য বানানগত পার্থক্যই SIR-এর সময় ‘নামের অমিল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে ভারতরত্ন বিজ্ঞানীর নামের পাশে পড়েছে লালকালির দাগ।
নামের বানান না মেলায় নোটিস পাঠিয়ে প্রফেসর রাওকে নথিপত্র-সহ হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নোটিসে বেঙ্গালুরুর মল্লেশ্বরমে, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এর কাছে নির্ধারিত শুনানিতে হাজির হয়ে বিষয়টি মেটাতে বলা হয়েছে। তবে এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাওয়ের দপ্তরের এক প্রতিনিধির দাবি, তাঁরা এখনও কোনও নোটিস হাতে পাননি।
ওই প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সম্ভবত নোটিসটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের অফিসে ই-মেল বা কোনও ফিজিক্যাল নোটিস আসেনি। তাঁর কথায়, ‘Proff’ বানানে অতিরিক্ত একটি ‘f’ ছাড়া আর কোনও সমস্যা নেই।
অধ্যাপক নাগেশ রামচন্দ্র রাও, অর্থাৎ সিএনআর রাও, দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞানী। ১৯৩৪ সালে বেঙ্গালুরুতে জন্ম নেওয়া এই বিশিষ্ট রসায়নবিদ মূলত সলিড স্টেট মেটেরিয়াল (solid-state materials), ন্যানো-মেটেরিয়ালস (nanomaterials) এবং স্ট্রাকচারাল কেমিস্ট্রি (structural chemistry) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন।
১৯৭৬ সালে IISc-তে সলিড স্টেট স্ট্রাকচারাল কেমিস্ট্রি ইউনিট (Solid State and Structural Chemistry Unit) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের ডিরেক্টর ছিলেন। তাঁর নামে রয়েছে ১,৬০০-রও বেশি গবেষণাপত্র এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মান। ২০১৪ সালে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন দেওয়া হয়।
কর্নাটকে SIR-এর সময়ে ভোটার তালিকায় যাঁদের নামের ক্ষেত্রে ‘no mapping’ বা ‘anomalies’ ধরা পড়েছে, তাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৪৩.৮১ লক্ষ নোটিস তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭.৩১ লক্ষ নোটিস ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্নাটকের ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪.৪৬ কোটি।
CNR রাও একা নন। এর আগে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত হরেকালা হাজাব্বা-কেও নামের অমিলের কারণে SIR নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরে আধিকারিকরা বিষয়টি যাচাই করে ভুল সংশোধন করেন এবং তাঁকে দপ্তরে হাজির হওয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই দিতে বাড়িতেই গিয়ে সমস্যা মিটিয়ে দেন।
ফলে CNR রাওয়ের নামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি ‘F’ নিয়ে SIR নোটিসের ঘটনা কর্নাটকের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম ও নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এটিকে আপাতত ভোটার তালিকার একটি যাচাইযোগ্য অসঙ্গতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।