মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে কয়েক দিন আগেই তারাপীঠে ছুটে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ। কিন্তু গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দেখা পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে সেই সাক্ষাৎ হয়ে ওঠেনি। তাই এ বার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর জনতা দরবারে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা সেই অর্ধেন্দু সিনহা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর কাতর আর্জি, ‘আমার মেয়ে গত ৬ মাস ধরে নিখোঁজ। দয়া করে ওকে খুঁজে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।’
পরে বৃদ্ধ জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন। জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েকে খুঁজে দেওয়া হবে। অর্ধেন্দুর কথায়, ‘উনি বলেছেন, আপনারা নিরাপদে বাড়ি ফিরুন। আপনার মেয়েকে আমরা খুঁজে দেব।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়েছেন বৃদ্ধ। বলেছেন, ‘উনি বলেছেন যখন, নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ব্যবস্থা হবে। আশা করছি, শীঘ্রই মেয়েকে ফিরে পাব আমরা।’
অর্ধেন্দু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে যাওয়ার জন্য দিন চারেক আগেই আবেদন করেছিলেন তাঁরা। তার পরে মঙ্গলবার রাতে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বলা হয় বুধবার সকালে জনতার দরবারে আসতে। সেই মতো তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ভোর সাড়ে ৫টার ট্রেন ধরে প্রথমে শিয়ালদহ পৌঁছন। তার পরে সেখান থেকে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে যান। সেখানে দিয়ে কেঁদে ফেলে বৃদ্ধ দম্পতি। কাঁদতে কাঁদতে অমৃতার মা সুপ্রিয়া সিনহা বলেন, ‘বাড়িতে অভাব ছিল। আমার শরীর খারাপ। ওর বাবারও শরীর। এই পরিস্থিতিতে ও সর্বক্ষণ ভাবত যে, ওকে কিছু কাজ করতে হবে। আমার মনে হয়, এই ভাবনা থেকেই ও কোথাও চলে গিয়েছে। দয়া করে ওকে খুঁজে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ও ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।’
প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাস থেকে নিখোঁজ বছর চব্বিশের তরুণী অমৃতা। বাবা অর্ধেন্দু সিউড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। নেতাদের দরজাতেও কড়া নেড়েছেন। কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি। শেষে মেয়ের খোঁজে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন বৃদ্ধ। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে কার্যত গোটা বীরভূমই চষে বেড়িয়েছেন তিনি। আবার মেয়ের খোঁজে কখনও কলকাতায় এসেছেন, কখনও আবার অজ্ঞাতপরিচয়ের ফোন পেয়ে ছুটে গিয়েছেন আসানসোলে। জেলা পুলিশেরও একটি বিশেষ টিম অমৃতার খোঁজ করছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং সিআইডি-রও সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও তরুণীর হদিশ মেলেনি।