জমি দখলের অভিযোগ জানাতে এ বার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ গেলেন পূর্ণদাস বাউল এবং তাঁর ছেলে দিব্যেন্দুদাস বাউল। পরে তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। জানিয়েছেন, তাঁদের জমি ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরে পূর্ণদাস বলেন, ‘উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’ দিব্যেন্দুও বলেন, ‘উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জমিটা ফেরত পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এ নিয়ে উনি জেলাশাসকের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। কী ভাবে ফেরতের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে কথা বলেছেন। আর উনি বলেছেন, উনিই একটা অ্যাকাডেমি করে দেবেন ওখানে।’
পূর্ণদাস বাউলের অভিযোগ, ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় তাঁদের যে চার বিঘা জমি রয়েছে, তা দখল করে রেখেছেন সুকুল টুডু নামে এক ব্যক্তি। বার বার বলেও সেই জমি উদ্ধার করা যায়নি। এই অভিযোগ নিয়ে গত অগস্ট মাসেই বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পিতা-পুত্র। এ নিয়ে এই সময় অনলাইন সেই সময়ে জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওঁরা এসেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
জমিটি পুনরুদ্ধার করে সামাজিক কাজে ব্যবহার করতে চান পূর্ণদাস বাউল। তিনি আগেই বলেছিলেন, ‘বাউল সংস্কৃতি ও বাউলদের শিক্ষার প্রসারে আমরা ওই জায়গাটি ব্যবহার করতে চাই। কিন্তু জমিটি দখল হয়ে থাকায় এতদিন তা সম্ভব হয়নি।’ জমি ফেরত পেয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতেই তাঁরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জমি দখলের অভিযোগে নানা সময়ে সরব হয়েছেন পূর্ণদাস বাউল। এক বার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অনুষ্ঠানেও এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুরাহা হয়নি। সূত্রের খবর, ১৯৭৭ সালে ইলামবাজার থানার কামারপাড়া মৌজায় রাস্তার ধারে চার বিঘা জমি কেনেন পূর্ণদাস বাউল। কিন্তু, ২০০৬ সালের পর থেকে সেই জমি ধীরে ধীরে জবরদখল হতে শুরু করে বলে অভিযোগ। আগেও জেলাশাসক এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এ নিয়ে। তার ভিত্তিতে ‘দখল’ হয়ে যাওয়া জমি সরকারি ভাবে মাপজোকের কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা বেশি দূর এগোয়নি। নিজের জমিও ফেরত পাননি পূর্ণদাস বাউল।