পুজো মিটলেই পুরভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে। শুধু কলকাতা ও হাওড়া পুরসভাই নয়, বছর শেষের আগেই হলদিয়া, বালি, ধূপগুড়ি, কার্শিয়াং, ঝাড়গ্রাম ও কালিম্পং-সহ একাধিক পুর এলাকার ভোট মিটিয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। কলকাতা পুরভোটে বিজেপি-র তরফে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। কলকাতা পুরসভার ভোট প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ইন্দোর শহরের প্রসঙ্গ তুলেছেন সুকান্ত। তিনি জানিয়েছেন, ইন্দোর মডেলে কলকাতা কর্পোরেশন সাজানো হবে।
কী এই ইন্দোর মডেল?
ভারতের সবচেয়ে পরিষ্কার শহর হল ইন্দোর। কেন্দ্রীয় সরকারের সার্ভে অনুযায়ী, টানা ৮ বার দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর নির্বাচিত করা হয়েছে ইন্দোরকে। ভারতের কোনও শহরের ইন্দোরের চেয়ে বেশি পরিষ্কার নয়। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী পরিচ্ছন্নতায় একটি বেঞ্চমার্কে পরিণত হয়েছে। শহরবাসীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতেই প্রতি বছর এই সমীক্ষা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। নাগরিকেরা যাতে আরও বেশি করে পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেন।
দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর
২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অধীনে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলছে। টানা ৮ বার স্বচ্ছ্বতম শহরের পুরস্কার পেয়েছে ইন্দোর। তাই ইন্দোরের পুরপরিষেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেই কলকাতার জন্য রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। কলকাতা পুরসভা ভোটের ইশতেহারে ইন্দোর মডেলের কথা উল্লেখ করা হতে পারে।
সুকান্ত মজুমদারের কথায়, 'আমরা ইশতেহার তৈরি করব। ইশতেহার কমিটিকে আমি অনুরোধ করেছি, ইন্দোর মডেল অনুসরণ করতে। ইন্দোর কর্পোরেশন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্পোরেশন। আমি সেই মডেলকে সামনে রেখেই ইশতেহার তৈরি করব।'
ভাইফোঁটার পরে ইশতেহার প্রকাশের সম্ভাবনা
কলকাতা পুরসভা বর্তমানে বিজেপি-র দখলে নেই। রাজ্যের শাসকদল হলেও পুরভোটকে কোনও ভাবেই হাল্কা নিচ্ছে না রাজ্য বিজেপি। পুরোটাই মনিটরিং করছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদকে কমিটির কনভেনর করা হয়েছে। কো-কনভেনর রয়েছেন বিধায়ক রীতেশ তেওয়ারি। বড় সভা নয়, বাড়ি বাড়ি ও পাড়ায় গিয়ে প্রচারেই জোর দিচ্ছে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত খবর, ভাইফোঁটার পরেই কলকাতা পুরসভা ভোটের ইশতেহার প্রকাশ করতে পারে বিজেপি। ইশতেহার তৈরিতে কলকাতাবাসীর মতামতও নেওয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চার্জশিট পেশ করা হবে।