• সব দোকানেই পচা খাবার মেলেনি, নামী রেস্তোরাঁগুলির ঠিক কেন লাইসেন্স সাসপেন্ড? জানা জরুরি
    আজ তক | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বিরিয়ানির দোকান, ফুড স্টল, মিষ্টির দোকান মিলিয়ে মোট ৪০টি খাদ্যবিপণির লাইসেন্স রাতারাতি সাসপেন্ড করে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। যেগুলি খাদ্যসুরক্ষা বিধির মাপকাঠিগুলিতে অনুত্তীর্ণ। করিমস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক, শিমলা বিরিয়ানির মতো দোকানগুলি এই তালিকায় দেখে খাদ্যপ্রেমীর চোখ কপালে। কিন্তু কী কারণে এই রেস্তোরাঁগুলির লাইসেন্স বাতিল হল? যে আউটলেটগুলি অনুত্তীর্ণ, তাদের ঝাঁপ কি আদৌ খুলবে?

    মির্জা গালিব স্ট্রিটের করিমস: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাবার তৈরির অভিযোগ রয়েছে এই রেস্তোরাঁর নির্দিষ্ট এই আউটলেটটির বিরুদ্ধে। সে কারণেই সাময়িক ভাবে লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে পরিবেশ স্বাস্থ্য উপযোগী করলে আবারও খুলতে পারে এই মোগলাই খাবারের দোকান। 

    ডায়মন্ড হারবার রোডের ডেনজং কিচেন: একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই ফুড চেনের নির্দিষ্ট আউটলেটের বিরুদ্ধে। প্রথমত, FSSAI-এর লাইসেন্স ডিসপ্লে করা নেই। দ্বিতীয়ত, মেয়াদ উত্তীর্ণ দইয়ের প্যাকেট পাওয়া গিয়েছে। সর্বোপরি ১০ কেজি চিকেন ও মাছ, ৫ কেজি মোমো এবং ৩ কেজি কাটা সবজি অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রাখা ছিল। কোনও ডেট লেবেলও ছিল না তাতে। সেগুলি সব ফেলে দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে ডেনজং কিচেনের এই আউটলেটের। 

    বিএল সাহা রোডের বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক: খাদ্যকর্মীদের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল না এই মিষ্টির দোকানে। ফ্রিজে রাখা কোনও মিষ্টিতেই ডেট ট্যাগ ছিল না। রান্নার তেল সম্পর্কিত কোনও লেবেলও মেলেনি। ঢাকা না দেওয়া ডাস্টবিনের ব্যবহার। ফ্রিজের টেম্পারেচার কন্ট্রোলের কোনও ব্যবস্থাপনা নেই। কর্মীরা কোনও হেড গিয়ার বা অ্যাপ্রন পরে ছিলেন না। ঢাকা ছাড়াই ফ্রিজে খাবার রাখা এবং সর্বোপরি আলুর তরকারি খোলা জায়গায় রাখা। এই সমস্ত কারণ খতিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। যদিও বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্রাঞ্চটি তাদের নয়। অরিজিনাল সংস্থার সঙ্গে এই ব্রাঞ্চের কোনও সম্পর্ক নেই। 

    কালিপুরের শ্রীকৃষ্ণ সুইটস: FSSAI লাইসেন্স ডিসপ্লে করা নেই। বাসনপত্র মাজা ছিল না। পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকার অভিযোগে লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।

    গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং: উৎপাদনের জায়গা অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। 

    কোন কোন রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল?
    > হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সরণির রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেড
    > লেক ভিউ রোডের এশিয়া হাউস
    > গোল্ডেন গেট
    > রামমোহন সরণির দাদা বৌদি হোটেল
    > পার্ক স্ট্রিটের ডন জিওভিনি’স
    > মির্জা গালিব স্ট্রিটের করিমস
    > সল্ট লেকের চৌরাসিয়া চাট
    > বেনিয়াপুকুরের ‘মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’
    > জেপটো লিমিটেড
    > শ্রী ব্রজরাজ
    > এশিয়া হাউস
    > এফ অ্যান্ড বি মার্কেটিং লিমিটেড (চায়গ্রাম)
    > ডেনজং কিচেন
    > সোফিয়া হোটেল
    > ডায়মন্ড পার্কের গঙ্গা
    > বিরিয়ানি কর্নার
    > শম্ভু অয়েল মিল
    > মিস্ট অ্যান্ড মরসেলস প্রভৃতি
    > গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং
    > কালীপুর রোডের শ্রী কৃষ্ণ সুইটস
    > বিএল সাহা রোডের বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক
    > ধাপা রোডের মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার
    > ক্রিস্টোফার রোডের শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার
    > মিঠাই ভান্ডার
    > শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার 

    লাইসেন্স স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে এখনই চিরতরে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট দোকান ও রেস্তোরাঁগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গা পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে ফের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

     
  • Link to this news (আজ তক)