ভূপেন হাজারিকার স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার বাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগী আসাম সরকার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতার সঙ্গে ভূপেন হাজারিকার (Bhupen Hazarika) সম্পর্ক ছিল গভীর। তাঁর সংগীতজীবনের উত্থান ও বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে এই শহরের সঙ্গে। টালিগঞ্জের গলফ ক্লাব রোডে থাকা তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিকে এবার সংরক্ষণ করে স্মারক হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে আসাম সরকার। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আসাম সরকারের পরিকল্পনা, ঐতিহাসিক বাড়িটি অধিগ্রহণ করে সেখানে একটি সংগ্রহশালা বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা। ভূপেন হাজারিকার (Bhupen Hazarika) ব্যবহৃত সামগ্রী, গানের রেকর্ড, পাণ্ডুলিপি, দুর্লভ ছবি-সহ তাঁর সংগীতজীবনের নানা স্মারক সেখানে সংরক্ষণ করা হতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিল্পীর জীবন ও সৃষ্টিকে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
চিঠিতে ভূপেন হাজারিকার (Bhupen Hazarika) সঙ্গে কলকাতার আত্মিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ভূপেন হাজারিকা শুধু আসামের গর্ব নন, তিনি সমগ্র ভারত তথা বাংলারও অমূল্য সম্পদ। তাঁর কলকাতার বাসভবনটি আমাদের কাছে এক পুণ্য তীর্থস্থানের মতো।’
পঞ্চাশের দশকে আসাম থেকে কলকাতায় এসে ভূপেন হাজারিকা (Bhupen Hazarika) যুক্ত হয়েছিলেন ভারতীয় গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে। এই শহরেই হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং লতা মঙ্গেশকরের মতো বিশিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বাংলা ও অসমিয়া সংগীতের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরিতেও কলকাতার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আসাম সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাড়িটি শুধু একটি স্মৃতিসৌধ নয়, দুই রাজ্যের সাংস্কৃতিক সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সংগীতপ্রেমীদের।