সুমিত রায়ের অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি! অভিষেকের আপ্তসহায়ককে নিয়ে আদালতে বিস্ফোরক দাবি রাজ্যের
প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে শুধুমাত্র জুনেই জমা পড়েছে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা। আজ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে সুমিত রায়ের জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেই শুনানিতেই এদিন চাঞ্চল্যকর দাবি রাজ্যের। শুধু তাই নয়, জমি দুর্নীতি তদন্তে এখনও পর্যন্ত যা উঠে এসেছে, তা হিমশৈল্যের চূড়া বলেও দাবি।
শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (Abhishek Banerjee’s PA) সুমিত রায়ের (Sumit Roy)। ইতিমধ্যে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে। এরপরেই গত কয়েকদিনে একাধিকবার তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়েছেন সুমিত রায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। গত শুনানিতেই এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে মুখবন্ধ খামে জমা দিয়েছে রাজ্য। এদিন শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সুমিতের অ্যাকাউন্টে ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। আর তা গত জুন মাসে। শুধু তাই নয়, মোট ১৫ কোটি টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। কিন্তু বিপুল এই টাকার উৎস কী? তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আদালতে সওয়াল রাজ্যের আইনজীবীর। আর সেই কারণেই অভিষেকের আপ্তসহায়ককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে ফের এদিন আদালতে সওয়াল করেন মেহতা।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত শুনানিতেই রাজ্য অভিযোগ করেছিল, তদন্তে কোনও সহযোগিতা করছেন না সুমিত। এমনকী বিপুল অর্থের যে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে তাও জানান তুষার মেহতা। সেই সময়েই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, বিপুল অঙ্কের লেনদেন নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা। এই বিষয়ে রাজ্যের আইনজীবী তুষার মেহতা জানিয়েছিলেন, সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। সবপ্রশ্ন কার্যত এড়িয়ে যাচ্ছেন। যদিও এহেন দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সুমিতের আইনজীবী। এ অবস্থায় সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত রেকর্ড দেখতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার জেরা পর্বের সেই ভিডিও আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য। এমনকী তদন্তে এখনও পর্যন্ত কি কি তথ্য উঠে এসেছে, তার একটি রিপোর্টও এদিন মুখবন্ধ খামে জমা দিয়েছে রাজ্য।