মার্কিন চাপে নতিস্বীকার? ‘ভাড়াটে’ সৈনিকের বিরুদ্ধে জঙ্গি অভিযোগ এনেও প্রত্যাহার এনআইএ’র
প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্র! কুখ্যাত মার্কিন ‘ভাড়াটে’ সৈনিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেপ্তারের পর এই অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ছিল সন্ত্রাস ছড়ানো এবং সন্ত্রাসে মদত দেওয়া। কিন্তু মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন আচমকা দেখা যায়, এনআইএর পেশ করা চার্জশিটে ম্যাথু এবং তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে নেই ইউএপিএ ধারা! তারপরই প্রশ্ন ওঠে, ম্যাথুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে কি চাপ দেওয়া হচ্ছে?
গত ১২ মার্চ দমদম বিমানবন্দরে ম্যাথুকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। অভিযোগ, তিনি আমেরিকার তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে যুক্ত। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করছিলেন তিনি। তার জন্য উত্তর-পূর্বের একাধিক জনজাতিকে সেনার কায়দায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ম্যাথুর বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, মার্কিন সেনার ভাড়াটে সৈনিক হিসাবে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন ম্যাথু। তাঁর বিরুদ্ধে এনআইএ তদন্ত চলছে।
মঙ্গলবার দিল্লির বিশেষ আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানকার চার্জশিটে দেখা যায়, ম্যাথু-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারার উল্লেখ নেই। কিন্তু প্রাথমিকভাবে ইউএপিএর ১৮ নম্বর ধারায় অভিযোগ ছিল ম্যাথুর বিরুদ্ধে। তারপরই কংগ্রেসের তোপ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কি চাপ দিচ্ছে? সেকারণেই কি মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেও তা সরিয়ে দেওয়া হল? সমালোচনার মুখে পড়ে এনআইএর সাফাই, চার্জশিট থেকে বাদ পড়লেও ম্যাথু-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের তদন্ত এখনও চলছে। আগামী দিনে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে আবারও ইউএপিএ ধারা যোগ করে দেওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ম্যাথুর গ্রেপ্তারি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ম্যাথুকে দেশে ফেরাতে ইতিমধ্যেই মার্কিন দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছে তাঁর পরিবার। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি ও মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ম্যাথুর পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং জয়রাম রমেশদের তোপ, মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেও কেন তা বাদ দেওয়া হল? এটা কি মার্কিন দাদাগিরির কাছে নতিস্বীকার?