পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে পুরুলিয়া। ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা জঙ্গলমহলের এই জেলার বিভিন্ন সম্পদের কথা তুলে ধরে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) কাছে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (Jyortimay Singh Mahato)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জঙ্গলমহলের এই জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে একটি দাবিপত্র তুলে দিয়েছেন। যেখানে জেলার পর্যটনকে ত্বরান্বিত করবে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত বিমানবন্দর, সেই সঙ্গে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ করে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সেরা ওয়াইল্ডলাইফ ডেস্টিনেশন, ফিল্ম সিটি ও যোগাযোগের প্রসারে আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল। এই ছ’দফা দাবিতে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে পুরুলিয়া বলে সাংসদ ওই সাক্ষাৎ পর্বে জানিয়েছেন।
রাজ্য বাজেটেই ঘোষিত হয়েছে পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে ছড়রা বিমানবন্দর। এর জন্য ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাংসদের আবেদন, রাজ্য সরকার যাতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান মন্ত্রক ও এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বিমানবন্দর নির্মাণে দ্রুত প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ শেষ করে। ওই বিমানবন্দর চালু হলে জঙ্গলমহলে পর্যটন আরও ত্বরান্বিত হবে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগ ও তাকে ঘিরে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে দাবি পত্রে রয়েছে। পুরুলিয়ার পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনা, লোক শিল্পকে ঘিরে এক বিশাল পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে যা এতদিন অবহেলিত ছিল।
ওই দাবি পত্রে পুরুলিয়াকে ঘিরে ইন্ট্রিগ্রেটেড ট্যুরিজম সার্কিটের কথা বলেছেন। অযোধ্যা পাহাড়, খয়রাবেড়া, মুরগুমা, ঝালদা, গড়পঞ্চকোট, বড়ন্তি টুরিস্ট স্পট গুলিকে বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করা। অর্থাৎ রোপওয়ে, ভিউ পয়েন্ট, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ইকো রিসোর্ট, ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার। সেই সঙ্গে রাতের বেলায় পুরুলিয়ার পাহাড়-জঙ্গলকে দেখার সুবিধা, পার্কিং, উন্নত মানের রাস্তার কথা বলা রয়েছে। আর এই পর্যটনকে ত্বরান্বিত করতেই পুরুলিয়া বনবিভাগের কোটশিলা-ঝালদাকে কনজারভেশন রিজার্ভের তকমা দিয়ে ওয়াইল্ড লাইফ ও ইকো ট্যুরিজম হাবের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বান্দোয়ানের কুইলাপালে ফিল্ম সিটি।
বিগত সরকারের আমলে প্রস্তাব থাকলেও যা হয়নি। অরণ্য সুন্দরী বান্দোয়ানের পাহাড়, জঙ্গল আদিবাসী গ্রাম সিনেমা, ওয়েব সিরিজের শুটিং-র আদর্শ লোকেশন হবে বলে মনে করেন সাংসদ। টলিউড, বলিউডকে আকর্ষণ করতে এই জঙ্গলমহল এলাকায় স্টুডিও, আউটডোর লোকেশন, থাকার জায়গা সহ পেশাদার ফিল্ম সিটি গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এই কাজে ওই এলাকায় প্রচুর কর্মসংস্থান হবে বলে তিনি মনে করেন।