• তোলাবাজির ঘুণ ধরছে দলে, সামনে পুরভোটও! সরকার-সংগঠন সমন্বয় মজবুতে বঙ্গ সফরে নীতিন নবীন
    প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার গড়েছে। দুর্নীতি, তোলাবাজিতে কোনও আপস নয়, সেই বার্তা বরাবর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও দুর্নীতি রুখতে বারবার বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু তারপরও বিজেপির নিচুতলার নেতা-কর্মীরা দুর্নীতি-তোলাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ। এদিকে সামনেই পুরভোট। দল কীভাবে এগোবে? সরকারের সঙ্গে সংগঠনের সমন্বয় কীভাবে মজবুত হবে? সেই চর্চাও হচ্ছে। এবার সেই আবহেই বঙ্গ সফরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।

    কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথমবার তিনি বাংলায় আসছেন। রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক করবেন তিনি। সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ। নতুন রাজ্য কমিটি গঠন থেকে সংগঠনে প্রয়োজনীয় রদবদল-বৈঠকে একাধিক বিষয় দু’দিনের সফরে আলোচনা হতে পারে। সেই কথা বিজেপির অন্দরে খবর। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। জেলায় জেলায় সংগঠন বাড়ছে। নিচুতলার নেতা-কর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। দুর্নীতি-তোলাবাজির অভিযোগ ছাড়াও একাধিক জায়গায় দলের নতুন-পুরনো কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বও দেখা দিচ্ছে! সেইসব বিষয় নিয়েও বৈঠকে কথা হতে পারে। তেমনই মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ তিনি কলকাতায় আসছেন। 

    দুর্নীতি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার ‘জিরো টলারেন্সে’র বার্তা দিচ্ছেন। বিজেপির কর্মীরা অন্যায় করলেও শাস্তি হবে, সেই জোরালো বার্তা দিয়েছেন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। দুর্নীতি ইস্যুতে প্রায় গোটা বাংলাজুড়ে তৃণমূলের ছোট-বড় নেতারা ‘ডিমথেরাপি’র শিকার। বিজেপির লোকজন দুর্নীতির সঙ্গে জড়ালে ‘ডিমথেরাপি’র অভিমুখ বিজেপির দিকেও যে কোনও সময় ঘুরে যেতে পারে! সেই আশঙ্কার কথা খোদ শমীক ভট্টাচার্যের। দলের বিভিন্ন কর্মী সমাবেশে দুর্নীতিতে না জড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন তিনি। একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় দলের বেশ কর্মী শাস্তির কবলেও পড়েছে। তবুও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে নীতিন নবীনের এইসব বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এমনও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। 

    শুধু তাই নয়, এবার বিজেপির অনেক নতুন মুখ ভোটে জিতে বিধানসভায় গিয়েছেন। অনেক নতুন মুখ মন্ত্রীও হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে। নেতা, মন্ত্রী-বিধায়কদের ভূমিকা কী হবে? সরকার ও বঙ্গ বিজেপির সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করার বিষয়টি চর্চায় রয়েছে। সেইসব বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন আলোচনা করতে পারেন রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে। আগামী দিনের দলীয় কর্মসূচি নিয়েও নীতিনের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলায় এর আগেও সফরে এসেছেন এই কেন্দ্রীয় নেতা। বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে একাধিক বৈঠকও করেছেন তিনি।

    সামনেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। দুটি পুরসভাতেই জয় পেতে চাইছে বিজেপি। নির্বাচনের জন্য রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে দল। এরপর রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও ভোট হবে। সেসব পুরভোটেও ভালো ফলের প্রত্যাশী বিজেপি। শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদাররা দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের বার্তা দিচ্ছেন। সংগঠনকে আরও ভালোভাবে সাজাতে বার্তা দিতে পারেন নীতিন নবীন। এমনই মনে করছেন নেতৃত্ব।
  • Link to this news (প্রতিদিন)