• প্লাস্টিক, পুজোর ফুলে প্রাণের সঞ্চার! কলকাতার এই পুজোয় মেলবন্ধন ঘটবে মানব-পরিবেশের
    প্রতিদিন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • পরিবেশের প্রতি মানুষের যে অবহেলা, নির্লিপ্ততা, তার কারণ মানুষের সঙ্গে তার দূরত্বই তো। এই তফাৎ ঘুচিয়ে, মানুষের জীবনের মধ্যেই পরিবেশ সচেতনতার সংযোজন ঘটাতে, চলতি বছরে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের (Ballygunge Cultural Association) দুর্গাপুজোর থিম ‘যোজন’। কলকাতার জনপ্রিয়তম পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এটি। প্ল্যাটিনাম জুবিলি পার করে এবার ৭৬তম বছরের উদযাপন তাদের। পুজোর মাসখানেক বাকি থাকতে তারা সামনে এনেছে এ বছরের শিল্পভাবনা।

    সাধারণ থিমের গণ্ডি পেরিয়ে ‘যোজন’ হয়ে উঠবে মানুষের সঙ্গে মানুষের, ও মানুষের সঙ্গে পরিবেশের সংযোগের গাথা। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, শিল্প ও মানব প্রজন্মের মেলবন্ধনের উদযাপনই বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের এই বছরের থিমের মূল লক্ষ্য। সামগ্রিক শিল্পভাবনাটিকে বাস্তবায়নের দায়িত্বে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। 

    পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা বহন করবে এবারের পুজো। এই উদ্দেশ্য সাধন করতেই তারা শুরু করছে বিশেষ উদ্যোগ, যার নাম ‘মিশন রি: রিজয়েস। রিসাইকেল। রিপিট’। অর্থাৎ উৎসব পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত সামগ্রীকে আবর্জনার মতো যত্রতত্র ফেলে না দিয়ে, তা যাতে পুনর্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া। এবং এই সচেতনতাকে এককালীন করে রাখার বদলে অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা।

    এমন অভিনব উদ্যোগের অংশ এইবার ‘ইকোভিল’-ও। পুজো প্রাঙ্গণ থেকে সমস্ত ধরনের প্লাস্টিক আবর্জনা, যেমন চিপস-বিস্কুটের খালি প্যাকেট, বোতল প্রভৃতি সংগ্রহ করবে তাঁরা, এবং তা দিয়ে নির্মাণ করা হবে পুনর্ব্যবহার্য সামগ্রী। মণ্ডপের স্টলেই বিক্রির ব্যবস্থাও থাকবে এই সমস্ত পণ্যের।

    একইরকমভাবে, আবর্জনায় পরিণত হবে না এই পুজোতে ব্যবহৃত ব্যানার-ফ্লেক্সও। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পথচলা’র দায়িত্বে তা দিয়ে প্রস্তুত করা হবে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন টোট ব্যাগ, ফাইল অর্গানাইজার, কোস্টার প্রভৃতি। তৈরি করবেন দক্ষিণ কলকাতার প্রান্তিক পরিবারগুলির সুবিধাবঞ্চিত নারীরা। অর্থাৎ একই সঙ্গে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল ও প্রান্তিক পরিবারগুলির কর্মসংস্থানের প্রতি সচেষ্ট হবে এই উদ্যোগ।

    এমনকী নতুন জীবন ফিরে পাবে পুজোয় ব্যবহৃত ফুল ও অন্যান্য পচনশীল সামগ্রীও। পুজোর মণ্ডপ থেকে সংগৃহীত হয়ে তা পাঠানো হবে বীরভূমে, তা দিয়ে তৈরি হবে জৈব সার। মল্লারপুর নৈসুবা ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় মহিলারাই করবেন এ কাজ। এরপর এই জৈব সার বাড়ির বাগানে ব্যবহার্য হিসেবে বিক্রি করা হবে।

    পুজো মণ্ডপে রাখা হবে আরও নানান ভিজ্যুয়াল আর্ট ও ইনস্টলেশন। প্রতিবারই এই পুজো ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অঞ্জন উকিল ও সম্পাদক সপ্তর্ষি বসুর আশা, এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না। এবারও শিল্পীর হাত ধরে নতুন কিছুই উপহার দেওয়া সম্ভব হবে পুজোপ্রেমীদের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)