“বাগেশ্বর বাবা একজন বাচাল ছেলে। এক কথায় এটা অসভ্যতা।” দুর্গাপুজোয় বাঙালিদের আমিষ খাবার নিয়ে সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে একথাই বললেন পরমাত্মানন্দজী মহারাজ। তাঁর প্রশ্ন, কে কী পরবে, কে কীভাবে চলবে, কে কী খাবে তা ঠিক করে দেওয়ার বাগেশ্বর বাবা কে ? তাঁর স্পষ্ট কথা, “বাঙালি মাছ-মাংস রান্না করবে। দুর্গাপুজোর ক’দিন কব্জি ডুবিয়ে কচি পাঠার ঝোল, ইলিশ মাছের ভাপা, ফিশ কাটলেট, চিলি চিকেন খাবে। দেবতাকে মাছ-মাংস দিয়ে ভোগ দেবেন। এই নিয়ে যেন কেউ দাদাগিরি ফলাতে না আসে।”
মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার নিদান সম্পর্কে পরমাত্মানন্দ মহারাজ জানান, অন্যরাজ্যের মানুষকে বাগেশ্বর বাবা ধর্মের সুরসুরি দিতে পারেন, কিন্তু বাঙালিকে বোকা বানাতে এলে বাঙালি ঘুরিয়ে নাক দেখিয়ে দেবে। শাস্ত্রে দেবীকে ‘মদ্য মাংস বলি প্রিয়া’ বলা হয়েছে। এসবকে ভিনরাজ্যের নিরামিষপনায় ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে না। আমিষ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার নিদানকে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে সমর্থন জানান উপস্থিত ভক্তরা। এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সিপিএমকে কটাক্ষ করেন পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি জানান, রাজ্যে ৩৪ বছরের সিপিএম শাসনকালের অবসানের আগে ব্রিগেড সমাবেশেও প্রচুর লোক হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সত্ত্বা পালটে যায়। বাগেশ্বর বাবাকে ‘হনু বাবা’ বলেও কটাক্ষ করেন মহারাজ।
সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাঙালিকে পাঠ দিয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “নবরাত্রির সময় পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাওয়া হয়। নোংরা নোংরা খাবার রান্না করা হয়। এসব আমার একেবারেই পছন্দ নয়।” এই প্রসঙ্গেই বাঙালিকে পাখাণ্ডী বা ভণ্ড বলে আক্রমণ করেন তিনি। আমিষভোজীদের বহিষ্কার করার বার্তাও দিয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা। এরপরেই রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়ক থেকে শুরু করে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেন, বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার জন্য বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করে কংগ্রেস।