৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রাঙ্কোঠা বড়পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ৫টি ওরাংওটাংকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দা এই প্রাণীদের ভারতের জঙ্গলে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বন দপ্তরের কর্মীরা। কিন্তু কোথা থেকে এল তারা? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ মহলে।
এ বার সেই রহস্যের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নামল ওডিশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF। STF-এর একটি বিশেষ দল গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী ভাবে এত দূরের দেশ থেকে পাঁচটি ছোট ওরাংওটাং ওডিশার জঙ্গলে এসে পৌঁছল, সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম পাঁচটি ওরাংওটাংকে জঙ্গলের মধ্যে দেখতে পান। গাছের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল তারা। বিষয়টি নজরে আসতেই বন দপ্তরে খবর দেওয়া হয়। এর পরে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচটিকেই উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাংয়ের মধ্যে তিনটি পুরুষ এবং দু’টি স্ত্রী। তাদের বয়স এক বছরেরও কম। উদ্ধারের পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে পাঁচটিকেই নন্দনকানন জুলজিক্যাল পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আলাদা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় রেখে তাদের উপর নজর রাখা হচ্ছে।
এখন তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। ওরাংওটাং উদ্ধারের আগের রাতে জঙ্গলের কাছে একটি কালো SUV দেখা গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই এলাকার CCTV ফুটেজে কালো একটি মাহিন্দ্রা থারকে রাত প্রায় ১১টা ২৫ মিনিটে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পরে সেটিকে আবার ফিরে আসতেও দেখা গিয়েছে।
এই গাড়িটি কার, কেন রাতে ওই এলাকায় গিয়েছিল এবং ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না — এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে গাড়িটি যে পাচারের সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। তাই এটিকে আপাতত তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
STF-এর পাশাপাশি তদন্তে রয়েছে Wildlife Crime Control Bureau বা WCCB। STF-এর দল ইতিমধ্যেই বালেশ্বরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। তদন্তকারীরা ওরাংওটাংগুলির সম্ভাব্য যাত্রাপথও খতিয়ে দেখছেন।
আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ওরাংওটাংগুলি ভারতের স্বাভাবিক বাসিন্দা নয়। তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গল। ফলে এতগুলি শিশু ওরাংওটাং একসঙ্গে ওডিশার জঙ্গলে কী ভাবে এল, তা নিয়ে বন্যপ্রাণী পাচারের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বন ও পরিবেশমন্ত্রী গণেশ রাম সিং খুন্টিয়াও আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পাঁচটি ওরাংওটাং কী ভাবে বালেশ্বরে এল, কে তাদের নিয়ে এল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত — সবটাই তদন্ত করে দেখা হবে।
এই মুহূর্তে তাই তদন্তকারীদের হাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কয়েকটি — কালো SUV-টি কার? ওরাংওটাংগুলি কোথা থেকে এসেছিল? কোন পথে ওডিশায় পৌঁছেছিল? আর কে বা কারা তাদের জঙ্গলে রেখে গেল? পাঁচটি ওরাংওটাং এখন নন্দনকাননে নিরাপদে রয়েছে। কিন্তু তাদের ভারতে আসার রহস্য এখনও কাটেনি। আর সেই রহস্যের জট খুলতেই এখন CCTV ফুটেজ, গাড়ির গতিবিধি এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে STF।