লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা। বুধবার চার্জশিট পেশ করে জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত জঙ্গি মডিউলের অন্যতম সদস্য উমর উন নবী নিজেই গাড়ির ভিতরে বসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে দাবি করেছে NIA।
NIA-এ চার্জশিটে জানিয়েছে, দিল্লির ঘটনায় একটি ব্যবহৃত পুরোনো গাড়ি কিনে সেটিকে 'ভেহিকেল-বোর্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস' (VBIED)-এ পরিণত করা হয়েছিল। উমর নবী এবং তার সহযোগীরাই মূলত এই গাড়িটি জোগাড় করে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা ও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে উমরের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গাড়ির ভিতরে থাকা একটি ‘কম্যান্ড মেকানিজম’-এর সাহায্যে এই আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এই মামলায় মোট ৭,৫০০ পাতারও বেশি দীর্ঘ চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। এই হামলায় যুক্ত ১০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে UAPA আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), বিস্ফোরক আইন এবং অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিস্ফোরণে মূল হামলাকারী উমর নবীর মৃত্যু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। NIA জানিয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে একটি বড় মাপের আন্তঃরাজ্য জঙ্গি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই লালকেল্লার কাছে এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি হুন্ডাই আই-২০ (Hyundai i20) ভ্যানে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশে থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।