• ‘স্পেশাল’ খাওয়াদাওয়া নিয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর, রিপোর্ট তলব স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর, শুরু তদন্ত
    এই সময় | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে শিক্ষক দিবসের ‘স্পেশাল’ খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুইকে নিগ্রহের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠালেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। আগামী শুক্রবার তিনি নিজে জলপাইগুড়িতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর নির্দেশের পরেই বুধবার দুপুরে জেলা স্কুলে গিয়ে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেন উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সরকার।

    ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মিড ডে মিলে স্পেশাল খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই নিয়ে উৎসাহের অন্ত ছিল না পড়ুয়াদের। মাঝে মধ্যেই রান্নাঘরে গিয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল তারা। তাতেই রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কয়েক জন ছাত্রকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এর পরেই উত্তেজনা ছড়ায়। পাল্টা প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ধরে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ ওঠে ছাত্রদের বিরুদ্ধে। মারের চোটে তাঁর মাথা ফেটে যায়। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।

    সেই ঘটনার পরে এদিন সকাল থেকেই জেলা স্কুলের পরিবেশ ছিল থমথমে। ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক ভাবে কম। দুপুরে স্কুলে পৌঁছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলেন উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সরকার। যে জায়গায় প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়েছিল, সেই স্থানও পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রয়োজনে হাসপাতালে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

    এদিকে প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে সরব হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদিকা তথা মুদিপাড়া নগেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কোনও দোষত্রুটি থাকতেই পারে। তার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। ছাত্ররা এ ভাবে প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হবে, তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

    ঘটনার জেরে জেলার অন্যান্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আতঙ্কিত বলে দাবি সংগঠনের। প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

    অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলিও। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস সংগঠন। পাশাপাশি এদিন কালো ব্যাজ পরে প্রতীকী প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন সাহুডাঙ্গি পিকে রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

  • Link to this news (এই সময়)