• রেস্তোরাঁয় পচা খাবার বিতর্ক, মুখ খুলল আরসালান, বলরাম মল্লিক, কী বললেন ডেকার্স লেনের অরুণদা?
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বাসি খাবার, পচা মাংস, খাবারে ছত্রাক, নিষিদ্ধ রং, অস্বাস্থ্যকর রান্না, এমন নানা অভিযোগের কারণে কলকাতার অন্তত ৪০টি রেস্তোরাঁ-হোটেল-মিষ্টান্নবিক্রেতা ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর (Food Safety Concern)। তাদের মধ্যে একাধিক পরিচিত রেস্তোরাঁ বা ফুড চেন সংস্থাও রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরসালান(Arsalan), বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক(Balaram Mullick & Radharaman Mullick), করিম’স(Kareems)-এর মতো ব্র্যান্ড। খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চলে কলকাতার অফিস পাড়ার বিখ্যাত ডেকার্স লেনের খাবারের দোকানগুলিতেও। মেলে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান বা পচা-বাসি খাবারের হদিশ। এ দিকে কলকাতা শহরে কাজ করতে আসা, বহু মানুষের ভরসা ওই গলির খাবারের দোকানগুলিই। অল্প পয়সায় পেট ভরা খাবার। সেই সব পরিচিত গলি-লেনকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতার প্রাথমিক বিশ্বাস এবং ভরসার জায়গাতেও। পুজোর আগে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের পরপর অভিযানের জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে বহু ব্র্যান্ড। কী বক্তব্য তাদের? শুনলো এই সময় অনলাইন।

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনই কোনও সংস্থার লাইসেন্স পাকাপাকি ভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হলেও দু’সপ্তাহ মতো সময় দেওয়া হবে। তার মধ্যে সমস্ত শর্ত মানবে হবে রেস্তোরাঁ-সহ অন্যান্য ইটারিকে। তারপরে ছবি তুলে পুরসভায় পাঠানো হবে। তারপরে পুরসভার তরফে আবার ফুড সেফটি অফিসারকে পাঠানো হবে। সব দিক খতিয়ে দেখে আবার রেস্তোরাঁ চালুর অনুমতি দিতে পারেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর কর্তৃপক্ষ। সামনেই পুজো। আরসালান, করিম’স-এর মতো দোকানগুলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এই পরিস্থিতিতে কী বলছে তারা?

    আরসালান-এর তরফে বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আরসালানের চিফ অপারেটিং অফিসার হামজা এহসান বলেন, ‘আমরা সব সময়ই খাবারের গুণগুত মান নিয়ে সচেতন। এমন নয় যে, আজ রেড হচ্ছে বলেই বেশি সচেতন হচ্ছি। আমাদের যে ক’টি আউটলেটে রেড হয়েছে, কোথাও কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। আমরা নিজেদের উদোগে একটি কেমিক্যাল ল্যাব তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে কেউ গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন করলে রিপোর্ট দেখাতে পারব।’

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই, আরসালানে(Arsalan)-এর যশোহর রোড আউটলেটে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান চলাকালীন আচারি কাবাবের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সে সম্পর্কে আরসালানের যাদবপুর ব্রাঞ্চের ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ বলেন, ‘আচারি কাবাব স্বাভাবিক ভাবেই আচার দিয়ে ম্যারিনেট করা হয়, তাই একটা টক টক ভাব থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মাংস বা ম্যারিনেশনের মশলা খারাপ ছিল।’ আরসালানের আরও একটি শাখায় অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক ভাবে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে কার্যত কিছুটা অপ্রস্তুত দেখায় আরসালান কর্তৃপক্ষকে। পরে অবশ্য তাঁরা দাবি করেন, ওই নির্দিষ্ট আউটলেটটি মঙ্গলবার থেকেই সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পুজোর আগে খুলে যাবে। একই সঙ্গে অমিতাভ বলেন, ‘আমাদের কোনও খাবার বেঁচে গেলে, তা কর্মী বা গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়।’

    ভূতের রাজা দিল বর(Bhooter Raja Dilo Bor)-এর কর্ণধার রাজীব পাল বলেন, ‘আমাদের ৫টি আউটলেটে রেড হয়েছে। সব জায়গায় ক্লিন চিট পেয়েছি। তবে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ বিষয়গুলি নিয়ে কুৎসা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।’ রাজীবের অবশ্য দাবি, রান্না করা অবস্থায় মাছ-মাংস বেশি থেকে গেলে, নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই তা ফ্রিজে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া হয়। পরের দিন প্রথমে ওই গুলিই সার্ভ করা হয়, তার পরেই নতুন মাংস রান্না করা হয়। যদিও রাইস বেঁচে গেলে, তা মাছের খাবারের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই অভিযানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজীব।

    লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিকে(Balaram Mullick & Radharaman Mullick)-র একটি ব্রাঞ্চেরও। অভিযোগ ছিল, হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। যদিও কর্ণধার সুদীপ মল্লিক সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে বলেন, ‘বিএল সাহা রোডে যে আউটলেটের কথা বলা হয়েছে, তা আমাদের নয়।’ আরও এক কর্ণধার প্রদীপ মল্লিক বলেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব হাইজিন মেনে চলার চেষ্টা করি। কর্মীদের হাতে গ্লাভস, মাথায় টুপি থাকে। খাবারেও যতটা সম্ভব কম হাত দেওয়ার চেষ্টা করি।’

    কিছুদিন আগেই ডেকার্স লেনে(Dacres Lane) অভিযানে গিয়ে বিভিন্ন দোকানে অসঙ্গতি খুঁজে পান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিরা। এই বিষয়ে এই সময় অনলাইনকে জয় মা তারা দোকানের কর্ণধার অরুণ পাল বলেন, ‘আমাদের কিছু ভুল ত্রুটি ছিল যা ওঁরা দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। এতে কোনও রাগ বা অভিমান নেই। আমার দোকানে কিছু না পাওয়া গেলেও, ডেকার্স লেনের কিছু দোকানের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনও অভিযোগ গুরুতর নয়। আমাকেও কিছু উপদেশ ওঁরা দিয়ে গিয়েছেন। মানুষকে ভালো খাবার দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকটিও মাথায় রাখব।’ সেই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘তবে বেশি আয়োজন করতে গিয়ে একটা রুটি-তরকারির দাম যদি ৭০-৮০ টাকা হয়ে যায়, তা হলে ক’জন সেটা খেতে পারবেন?’

    সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে কস্তুরি রেস্তোরাঁ-র তরফে। তারা জানিয়েছে, কিছু আউটলেটে রুটিন মেনে রেড হলেও কোনও ক্ষেত্রেই লাইসেন্স বাতিল করার ঘটনা ঘটেনি। সব ক’টি আউটলেট বর্তমানে খোলা রয়েছে। FSSAI অফিসারদের গাইডলাইন মেনেই যা যা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সে সবই করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘রেস্তোরাঁ, হোটেল যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে, মিষ্টির দোকানে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করা হয়— তা মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি ছিনিমিনি খেলা এবং গুরুতর অপরাধ। যে ভাবে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ করা হয়, সে ভাবেই এই ধরনের রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)