চন্দননগরের গায়ে ফরাসি গন্ধ রয়েছে। মিউজিয়াম থেকে ক্লক টাওয়ার, ডুপ্লে কলেজ থেকে চার্চ—শহরের আনাচে-কানাচে ফরাসি শাসনের স্মৃতি। পুরোনো ঐতিহ্য ফের ফিরতে চলেছে। চন্দননগর স্ট্যান্ড রোডের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা ফরাসি আমলের রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনটিকে সংস্কার করে ঐতিহাসিক চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
চন্দননগর মহকুমা অফিসের উল্টো দিকেই ফরাসি আমলের রেজিস্ট্রি অফিস বিল্ডিং। চত্বরে একটি আদালতও রয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ভবন সংস্কারের জন্য মৌ স্বাক্ষরিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পরে নতুন করে সেই কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই হেরিটেজ রেজিস্ট্রি ভবনের সংস্কার কাজের সূচনা করবেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। উপস্থিত থাকবেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়িরি মাঁথৌ।
সংস্কারের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবার ভবন পরিদর্শন করেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ, হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুজ প্রতাপ সিং এবং মহকুমাশাসক আশুতোষ কুমার। সংস্কার কর্মসূচি উপলক্ষে আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর—তিন দিন ধরে চন্দননগরে চলবে ইন্দো-ফরাসি উৎসব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেক সাক্ষী থাকবে শহর।
উৎসবকে কেন্দ্র করে সাজতে শুরু করেছে গোটা চন্দননগর। আলোয় সাজানো হচ্ছে স্ট্যান্ড রোড। তৈরি হচ্ছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ। গঙ্গার বুকে হবে বিশেষ আরতি। চন্দননগর এমনিতেই ‘আলোর শহর’ নামে পরিচিত। দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বণ হলেও চন্দননগরের অন্যতম প্রধান উৎসব জগদ্ধাত্রী পুজো। তার আগে ইন্দো-ফরাসি মেলবন্ধনের এই উৎসবকে ঘিরে নতুন করে সেজে উঠছে সাবেক ‘ফরাসডাঙা’।
শুধু ফরাসি ঐতিহ্য নয়, চন্দননগরের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, ‘চন্দননগরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্য রয়েছে। সেগুলিকে রক্ষা করতে হবে। একসময় চন্দননগর বিপ্লবীদের আত্মগোপনের জায়গাও ছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে চন্দননগরের যে আত্মিক যোগ রয়েছে, তা আরও সুদৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ।’ একই সঙ্গে হুগলির ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চাইছে সরকার।
হুগলিতে ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক উপস্থিতিকে একসঙ্গে তুলে ধরে ‘ইউরোপিয়ান সার্কিট’ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। ব্যান্ডেলে পর্তুগিজ, চুঁচুড়ায় ডাচ, চন্দননগরে ফরাসি এবং শ্রীরামপুরে ডেনিশ ঐতিহ্যের যে নিদর্শন রয়েছে, সেগুলিকে যুক্ত করে হুগলি নদীকে কেন্দ্র করে রিভার ট্যুরিজম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। এ জন্য ব্যান্ডেল থেকে শ্রীরামপুর হয়ে ব্যারাকপুর পর্যন্ত আধুনিক জলযান চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
উৎসবের আলোকসজ্জাতেও থাকছে বিশেষ চমক। আলোকশিল্পী সঞ্জয় ভট্টাচার্য জানান, গোটা চন্দননগর স্ট্যান্ড আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে। থাকবে ২৪টি ‘টার্গেট’ এবং ২০টি প্যানেল। সাতটি স্টেজও আলোকসজ্জায় সাজানো হবে। একটি লঞ্চকেও সম্পূর্ণ আলো দিয়ে সাজানো হচ্ছে। সার্চলাইট, পাওয়ার লাইট, মেটাল ও টুনির ব্যবহার থাকবে এই আলোকসজ্জায়।
চন্দননগরে ইন্দো-ফরাসি উৎসব কবে হবে?
১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর, তিন দিন ধরে উৎসব চলবে।
কোন ঐতিহাসিক ভবন সংস্কার করা হবে?
চন্দননগর মহকুমা অফিসের উল্টো দিকে থাকা ফরাসি আমলের জরাজীর্ণ রেজিস্ট্রি অফিস ভবনটি সংস্কার করা হবে।
হেরিটেজ রেজিস্ট্রি ভবনের সংস্কারকাজ কবে শুরু হবে?
১১ সেপ্টেম্বর সংস্কারকাজের শুভ সূচনা করবেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
উৎসবে কারা উপস্থিত থাকবেন?
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের পাশাপাশি ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়িরি মাঁথৌ-সহ ফরাসি প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা।
চন্দননগরের আলোকসজ্জায় কী থাকছে?
স্ট্যান্ড রোডে ২৪টি টার্গেট, ২০টি প্যানেল, সাতটি আলোকসজ্জার স্টেজ এবং একটি আলোয় সাজানো লঞ্চ থাকবে।