পুরাতন ভৃত্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোটিপতি শ্বশুরকে খুন! বউমার কীর্তিতে চাঞ্চল্য
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজের বাড়িতেই খুন হয়েছেন কানপুরের কোটিপতি ব্যবসায়ী। শ্বশুরমশাইয়ের মৃত্যুতে কেঁদে ভাসিয়েছিলেন বউমা। কিন্তু তদন্তে জানা গেল, এই বউমাই আসল মাস্টারমাইন্ড! তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। কানপুরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে নেমে তাজ্জব হয়ে গিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের জেরে একেবারে অন্য মোড় নিয়েছে খুনের তদন্ত।
মৃতের নাম বিনীত মিনোচা। ওষুধের ব্যবসা ছিল তাঁর। তবে পুত্র সুব্রত এবং বউমা শালুর আচার আচরণ মোটেই পছন্দ ছিল না। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা, বেহিসেবি খরচ মেনে নিতে পারতেন না বিনীত। তাই ছেলে-বউমার হাতখরচে রাশ টেনেছিলেন। তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বাড়িতে বসিয়েছিলেন সিসিটিভিও। স্বভাবতই বিষয়টি ভালোভাবে নেননি সুব্রত এবং শালু। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মাঝে মধ্যেই বিবাদ হয়। পুলিশের অনুমান, শ্বশুরের কড়াকড়িতে বিরক্ত হয়েই খুনের ছক কষেন শালু। সাহায্য নেন দীর্ঘদিনের কর্মচারী বিশাল গৌতমের।
জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে অন্তত ১৩ বছর ধরে কাজ করেছেন বিশাল। তবে এখন আর কাজ করেন না। কিন্তু বাড়ির যাবতীয় খুঁটিনাটি তাঁর নখদর্পণে। শ্বশুরকে খুনের ছক কষতে গিয়ে প্রথমেই বিশালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শালু। ফোনে অন্তত ৩০৯বার কথা হয় তাঁদের। একাধিক চ্যাটও রয়েছে তাঁদের। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিশালকে ৬ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শালু। তারপরই খুনের পরিকল্পনা শুরু হয়। কথা ছিল, খুনের পরই ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বিশালকে। ১৫ দিন পরে বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
খুনের দিন সন্ধেয় পার্টির নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শালু এবং সুব্রত। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই আততায়ী বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে এবং বিনীতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু আততায়ীদের দেখে ফেলেন বিনীত। প্রথমে তাদের পরিকল্পনা ছিল শ্বাসরোধ করে খুন। কিন্তু পরে তারা ছুরি দিয়ে বিনীতকে আক্রমণ করে। গোটা ঘটনা ধরা পড়ে যায় সিসিটিভিতে। শ্বশুরের মৃত্যুতে কেঁদে ভাসাতেও দেখা যায় শালুকে, তখনও পর্যন্ত সন্দেহের তালিকায় ছিলেন না তিনি। পরে বিশালকে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। আপাতত গ্রেপ্তার করা হয়েছে শালুকে। তবে এখনও আদালতে পেশ করা হয়নি তাঁকে।