শিক্ষক দিবসের ফিস্টে প্রধান শিক্ষককেই মার পড়ুয়াদের! ভিডিও ভাইরাল হতেই অ্যাকশনে স্কুলশিক্ষা দপ্তর
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলপাইগুড়ির স্কুলে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার লজ্জাজনক ছবি। ছাত্রদের নিকৃষ্ট আচরণে ধিক্কার রব উঠেছে দিকে দিকে। এবার সেই ঘটনায় নড়েচড়ে বসল স্কুলশিক্ষা দপ্তর। স্কুলে সরজমিনে তদন্তে পৌঁছল জেলা স্কুলে পরিদর্শক টিম। প্রধান শিক্ষককে ঠেলে ফেলে দেওয়ার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন এমন আচরণ করেছিল ছাত্ররা – তা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেয় স্কুলশিক্ষা দপ্তর। ঘটনার নেপথ্যে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার স্কুলশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিদর্শক টিম জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ওই স্কুলে পৌঁছে যায়। স্কুল পরিদর্শক সুজিত সরকারের নেতৃত্বে ঘটনার তদন্ত শুরু হয় এদিন। স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিদর্শক। ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা তা প্রত্যক্ষ করেছেন, ছাত্রদের কী অভিযোগ ছিল, প্রধান শিক্ষককে প্রহারের আগে কেন তাদের থামানো গেল না? এসব যাবতীয় প্রশ্ন এদিন তদন্তের আওতায় উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার ক্রমপর্যায় খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। জলপাইগুড়ির জেলা স্কুল পরিদর্শককে নির্দেশ স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিব বিনোদ কুমারের। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জখম প্রধান শিক্ষিক ধর্মুচাঁদ বারুই।
মঙ্গলবার শিক্ষক দিবসের বিশেষ খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে। স্কুলে মিড ডে মিলের ঘরে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন ছাত্র মিড ডে মিলের ঘরে উঁকি দেওয়ায় তাদের বেধড়ক মারধর করেন প্রধান শিক্ষক। এই অভিযোগকে ঘিরে পালটা প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয় ছাত্ররা। তাঁকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। স্কুলেও ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। পরে পুলিশ এসে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে। তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সময় প্রতিবাদে সরব হন স্কুলের শিক্ষক, অবিভাবক, ছাত্ররা। এবার দেখার, তদন্তের রিপোর্ট স্কুলশিক্ষা দপ্তরে কী তথ্য পেশ করে পরিদর্শক দল।