রাত পোহালেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। আসছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। এই বিলের মাধ্যমে কার্যকর হবে এক রাজ্য়, এক শিক্ষাব্যবস্থা নীতি। এই বিল পাশ হলে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আওতায় আনা হবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও। এতদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের অধীনে ছিল। গত ২০০৭ সালে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন। ২০০৮ সালের ৫ এপ্রিল থেকে তা কার্যকরও হয়।
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেদিনই তিনি ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ বিল আসতে চলেছে বলেই জানান। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে নতুন বিলটি মন্ত্রিসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যপালের কাছেও পাঠানো হয়েছে বিলটি। এবার বৃহস্পতিবার বিলটি বিধানসভায় পেশ করার অপেক্ষামাত্র। এদিনের মঞ্চ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রথম সারির শিক্ষাক্ষেত্র থেকে দেশবিরোধীদের উৎখাতের ডাক দেন তিনি। এই মর্মেই তিনি জানান, যা করার তা উচ্চশিক্ষা দপ্তর করছে।
কী থাকবে ওই বিলটিতে? রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা থাকবে এই বিলে। যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা অন্য বড় শহরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করেছেন, তাঁদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পড়াতে যেতে হবে। এই নীতি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। স্বাভাবিকভাবে এই বিল শিক্ষামহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় হয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার ফলে শিক্ষক, আধিকারিক কিংবা শিক্ষাকর্মীরা সরাসরি সরকারি কর্মী নন। তাই স্বাভাবিকভাবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই বদলি কি পারস্পরিক সম্মতিক্রমে হবে নাকি সরকারের ইচ্ছামতো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলি করা হবে। ওই বিল আসার পর সমস্ত বিভ্রান্তি দূর হবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।