প্রতীক কার? উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণ, দু’পক্ষকেই তলবের পথে কমিশন
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগেই সম্ভবত তৃণমূলের মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরই তড়িঘড়ি তৃণমূলের প্রতীক জটিলতা মেটাতে উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন। চলতি সপ্তাহেই দু’পক্ষকে দিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তলবের চিঠি পেয়ে গিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার নির্বাচন কমিশনের সচিব অশ্বিনী কুমার মোহালের তরফে ঋতব্রতকে চিঠি দিয়ে তলব করা হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রতদের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে বলা হয়েছে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে ডাকা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও। কেন তাঁদেরই প্রতীক দেওয়া হবে, ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে দুই শিবিরের কাছেই। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।
আসলে ১৬ সেপ্টেম্বরই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। তার আগেই তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। যাতে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের ‘গোষ্ঠী’ নিয়ে জটিলতা কেটে যায়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এক্ষেত্রে কমিশন দু’টি কাজ করতে পারে। এক, চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী রায়ে প্রতীক স্থগিত করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই আসন্ন উপনির্বাচনে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক পাবে না। দুই, কোনও এক শিবিরকে দলের প্রতীক তুলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে, যে শিবির প্রতীক পাবে সেই শিবির ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে পারবে। অন্য শিবিরকে অন্য কোনও প্রতীক নিয়ে নির্দল হিসাবে লড়তে হবে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তৃণমূলের প্রতীক পাওয়ার দৌড়ে খানিকটা এগিয়ে ঋতব্রত শিবিরই। কারণ, তাঁদের হাতেই এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তাছাড়া তৃণমূলের পঞ্চায়েত ও পুরসভার স্তরের জনপ্রতিনিধিদেরও একটা বড় অংশ ‘আসল’ তৃণমূলের সঙ্গেই। শেষমেশ যদি ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে ঋতব্রত শিবিরকেই দলের প্রতীক দেয় কমিশন, সেক্ষেত্রে উপনির্বাচনের আগে বিরাট ধাক্কা হতে পারে কালীঘাটের। কারণ সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শীর্ষ আদালত অন্তত এই উপনির্বাচনের প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়ার সম্ভাবনা কম।