• কলকাতার বধূকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে পাচার! অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন মধুমিতা
    প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সংসারে অভাব। বাধ্য় হয়ে কাজের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই নিখোঁজ কলকাতার বধূ। ১৭ দিন পর তাঁর খোঁজ মেলে বাংলাদেশে। একটি হাসপাতাল থেকে নিজেই ফোন করেন বাড়িতে। অবশেষে ফেরা হল সেই মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডলের। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার বাংলাদেশ থেকে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। চাকরির টোপ দিয়ে তাঁকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল বলেই অভিযোগ।

    উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের মধুমিতা আদতে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণে ভাইয়ের কাছে চলে আসেন। তাঁর ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রি পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। মধুমিতা এবং তাঁর সন্তান আশ্রয় নিতে পরিবারে অর্থাভাব বাড়ে। তখনই কাজের খোঁজে বেরন মধুমিতা। সোশাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি তাঁকে কাজের প্রস্তাব দেন। তামিলনাড়ুতে একটি ওয়ার্কশপে মোটা বেতনের কাজে রাজি হয়ে যান মধুমিতা। ১ জুলাই গালিফ স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন।

    কিন্তু তারপর থেকে মধুমিতার খোঁজ মেলেনি। বন্ধ হয়ে যায় মোবাইলও। ১৭ দিন পর ভাইকে ফোন করেন মধুমিতা। জানান, কাজ দেওয়ার নাম করে তাঁকে আসলে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। কোনওমতে পালিয়ে মধুমিতা আশ্রয় নেন গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে। খবর পেয়েই দীপঙ্কর শ‍্যামপুকুর থানায় যান। ডায়েরি করেন। রাজ‍্য পুলিশের ডিজি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিজি, মানব পাচার দমন শাখা, কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও অভিযোগ জমা পড়ে।

    অবশেষে বুধবার দেশে ফিরেছেন মধুমিতা। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার বাংলাদেশ থেকে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘোজাডাঙা আউটপোস্টে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন পবন কুমার এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা) চন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় মধুমিতাকে তাঁর ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির হাতে তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ঘোজাডাঙা আউটপোস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমার, বসিরহাট থানার এএসআই গোপাল মণ্ডল এবং কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের সদস্যরা। সেখান থেকে ভাইয়ের সঙ্গে কলকাতায় ফেরেন মধুমিতা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)