বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে করতেই বাড়ি ফিরছিল তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়া। সহপাঠীদের সঙ্গেই স্কুল ভ্যানে করে ফিরছিল সে। কিন্তু বাড়ির ফেরার আগেই ঘটল দুর্ঘটনা। ওই স্কুল ভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্কুল ভ্যানের দরজা হঠাৎ করে খুলে গিয়ে পড়ে যায় সে। মধ্যপ্রদেশের কাটনি জেলার এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ক্ষেত্রে কার গাফিলতি ছিল তাও দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
স্কুল ভ্যানের দরজা খোলা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার এই ঘটনা ঘটছে কাটনি জেলার বিজয়রাঘবগড় থানা এলাকায়। মৃতের নাম জিৎ যাদব (১০)। সেখানকার একটি বেসরকারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া সে। বিজয়রাঘবগড় থানার আধিকারিক অভিষেক চৌবে জানিয়েছেন, স্কুল থেকে ফেরার সময়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্কুল ভ্যানে করেই ফিরছিল জিৎ। কিন্তু হঠাৎ করেই খুলে যায় ওই স্কুল ভ্যানের দরজা। ফরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি ওই নাবালক পড়ুয়া। ফলে চলন্ত গাড়ি থেকে নীচে পড়ে যায় সে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ভ্যান থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে গুরুতর আহত হয় জিৎ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে। স্থানীয় বাসিন্দারাই নিয়ে যান তাকে। সেখানেই ওই পড়ুয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এর পরেই স্কুল ভ্যানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক এবং এলাকার লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল ভ্যানে কী ধরনের নিরাপত্তা থাকবে তা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি মানছে না ওই এলাকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি।
গাফিলতি কার?
আদালতের নির্দেশ অনুসারে, স্কুলের গাড়িগুলি হতে হবে হলুদ রঙের। সেই সঙ্গে গাড়িগুলির উপযুক্ত ফিটনেস থাকতে হবে। সেই সঙ্গে রাখতে হবে স্পিড কন্ট্রোল ডিভাইস। এছাড়াও আরও কয়েকটি জিনিস মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এ দিনের এই ঘটনায় কার গাফিলতি আছে তা জানার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ওই গাড়ির ফিটনেস ছাড়াও চালকের কোনও অবহেলা ছিল কী না তাও দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।