এই সময়, বালুরঘাট: মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ নয়, এ বার হাতের কারসাজিতে মজেছে পড়ুয়ারা। ম্যাজিকের মাধ্যমে 'অসম্ভব'কে সম্ভব করে দেখানোর পাশাপাশি শেখানো হচ্ছে তার নেপথ্যের বিজ্ঞানও। মোবাইলের আসক্তি দূরে রেখে সৃজনশীল কাজে আগ্রহ বাড়ানো ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ রাজ্যের।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পড়ুয়াদের উপরে মোবাইলের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে মোবাইল-মুক্তির দিশা দেখালো রাজ্যের শিশু কিশোর আকাদেমি ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। এদের যৌথ উদ্যোগে বালুরঘাট জেলা সংগ্রহশালায় বুধবার শুরু হয়েছে তিন দিনের 'এসো ম্যাজিক শিখি' কর্মশালা। চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। বালুরঘাটের পাঁচটি হাই স্কুলের সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির ৫৩ জন পড়ুয়া অংশ নিয়েছে।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ম্যাজিক অ্যাসোসিয়েটস-এর ম্যাজিশিয়ানরা হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন ম্যাজিকের নানা কৌশল। 'ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল' গোছের আজব কায়দায় ম্যাজিশিয়ানরা নানা কারসাজি দেখালেন ছাত্রছাত্রীদের সামনে। একই সঙ্গে প্রতিটি ম্যাজিকের পিছনে থাকা বিজ্ঞানসম্মত কারণও বুঝিয়ে দিলেন। প্রত্যেক পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ম্যাজিক সামগ্রী যাতে তারা বাড়িতে অনুশীলন করতে পারে। অনেক পড়ুয়াই হাতে-কলমে এই কৌশলের পরীক্ষা করে দারুণ মজা পেয়েছে। কর্মশালায় অংশ নেওয়া পড়ুয়া জয়ন্তী বসাক বলে, 'মোবাইলের থেকে ম্যাজিক অনেক বেশি ভালো লাগছে। এর পিছনের বিজ্ঞান জানায় পড়াশোনাতেও সুবিধা হবে।'
ছাত্রছাত্রীদের মতে, স্কুলে যদি নিয়মিত ম্যাজিক শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয় তা হলে অনেকেই এ নিয়ে মেতে থাকবে। অবসরে মোবাইল হাতে নিতে ইচ্ছে করবে না! কর্মশালা শেষে দেওয়া হবে শংসাপত্র। সংগঠনের সম্পাদক প্রশান্ত ঘোষ বলেন, 'ম্যাজিক বুদ্ধি ও অঙ্কের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মানেই বিজ্ঞান ও হাতের কারুকার্য। ভবিষ্যতে এটিকে পেশা হিসেবেও বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।'