বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
যে ট্রেন একটা সময়ে আসানসোল, হাওড়া বা ধানবাদ ডিভিশনের প্রথম ডাবল ডেকার ট্রেন ছিল, তা প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাওড়া ইয়ার্ডে পড়ে অচল অবস্থায়। সম্প্রতি কলকাতায় দেশের সব জ়োনের রেলের মুখ্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের সম্মেলনে এই ডাবল ডেকার ট্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হয়েছে।
২০১১-র ১ অক্টোবর তৎকালীন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী হাওড়া স্টেশন থেকে এই ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু শুরু থেকে এই ট্রেনের ভাড়া অন্য ট্রেনের তুলনায় বেশি হওয়া এবং তার যাতায়াতের সময় নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা আশাব্যঞ্জক ছিল না বলেই দাবি রেল মন্ত্রকের।
ডাবল ডেকার এই ট্রেন ধানবাদ থেকে ভোর ৫টায় ছেড়ে হাওড়ায় পৌঁছত সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে। আবার হাওড়া থেকে দুপুর ৩টে ২০ মিনিটে ছেড়ে তা ধানবাদে পৌঁছত সন্ধে ৭টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু ক্রমশ এই ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা কমতে থাকে। একটা সময়ে তা নেমে আসে ২২ শতাংশে।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ডাবল ডেকার ট্রেন চালানোর জন্য ধানবাদ থেকে হাওড়া পর্যন্ত প্রায় এক ডজন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের উপরের দিকে থাকা শেড অনেকটা ভাঙতে হয়েছিল। ওভারহেড তারও অনেক জায়গায় উঁচু করতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত ২০১৬-তে এই ডাবল ডেকার ট্রেন অস্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই বছরে ধানবাদের ডিআরএম এই ডাবল ডেকার ট্রেনকে কিছু দিনেরজন্য 'ছট স্পেশাল ট্রেন' হিসেবে চালিয়েছিলেন। রেলের টাইম টেবল অনুযায়ী এই ট্রেনের অস্তিত্ব ছিল ২০১৯-২০ পর্যন্তই।
২০১৮-তে ধানবাদ রেল ডিভিশন থেকে এই ডাবল ডেকার ট্রেনকে হাওড়া ও পরেশনাথের মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই মতো পরেশনাথ যাওয়ার পথে স্টেশনগুলির প্ল্যাটফর্ম ঠিকও করা হয়। কিন্তু শেষমেশ ট্রেন আর চলেনি! পড়ে থাকা সেই ডাবল ডেকার ট্রেন আদৌ আর চলবে কি না, তা নিয়ে রেল বোর্ডের তরফে কোনও লিখিত নির্দেশ মেলেনি। পূর্ব রেলের সিপিআরও শিবরাম মাঝি জানাচ্ছেন, আপাতত এই ট্রেন চালানো হবে না বলে কমবেশি ঠিক হয়ে গিয়েছে।
পূর্ব রেলের ইস্টার্ন রেলওয়ে মেন্স ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক সুধীর রায় বলছেন, 'বহুদিন ধরে দাবি জানাচ্ছি ট্রেনটি এ ভাবে ফেলে রেখে নষ্ট না-করে প্রয়োজনে পরেশনাথ থেকে হাওড়া, অথবা ধানবাদ থেকে চালানো হোক। কিন্তু রেলের তরফে কোনও সবুজ সঙ্কেত মেলেনি।' রেলের এনএফআইআর-এর নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং এবং সিটু রেল শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাজীব গুপ্তর মন্তব্য, 'এমন একটা ট্রেনকে এ ভাবে ফেলে রাখার অর্থ কোটি কোটি টাকা নষ্ট করা। অবিলম্বে ট্রেনটি চালু হোক।' আজ, বৃহস্পতিবার থেকে চালু হওয়া দিল্লিতে ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান রেলের তিন দিনের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই ট্রেনটি ধানবাদ থেকে না-হলে জসিডি থেকে চালানোর দাবি জানাবেন সর্বভারতীয় নেতা ইন্দ্রজিৎ সিং।