• অনুদানে 'না' শিল্পাঞ্চলের পুজো কমিটিগুলির
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বড় বাজেটের পুজোগুলির উদ্যোক্তাদের কাছে অনুরোধ করেছেন, তাঁরা যেন অনুদানের জন্য আবেদন না-করেন। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সিংহভাগ বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলি সরকারি অনুদান না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছু পুজো কমিটি অবশ্য দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

    অনুদান না-নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে দুর্গাপুরের অন্যতম ক্লাব স্যান্টোস। মঙ্গলবার ব্যানার লাগিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ বার নেওয়া হবে না সরকারি অনুদান। পুজো কমিটির সভাপতি অভীক ভট্টাচার্য বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে আমরা সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন থেকে বিরত থাকব। আমরা চাই, সেই নির্ধারিত টাকা ব্যবহার করা হোক জনকল্যাণমূলক কাজে।'

    একই পথে হেঁটেছে অগ্রণী সাস্কৃতিক পরিষদ কর্তৃপক্ষ। পুজো কমিটির পক্ষে দেবব্রত কেশ-এর মন্তব্য, 'মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পরেই পুজোর অনুদান না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' এ বার বিদেশের একটি মন্দিরের অনুকরণে মণ্ডপ তৈরি করছে অগ্রণী। দেবব্রত বলছেন, 'পুজোর বাজেট নিয়ে সমস্যা নেই।'

    দুর্গাপুরের আর একটি বড় বাজেটের পুজো শঙ্করপুর সর্বজনীন পুজো। সহ-সভাপতি কার্তিক পাল বললেন, 'অনুদানের জন্য আবেদন করছি না। আমরা চাই, যে সব ছোট পুজো কমিটি কষ্ট করে পুজোটা করছে, তাদের এই অনুদান দেওয়া হোক।' একই বক্তব্য ফুলঝোড় সর্বজনীন পুজো কমিটির। স্টিল টাউনশিপের মার্কনি দক্ষিণপল্লি পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ গণেশ দাস বলেন, 'এ বার অনুদানের জন্য আবেদন নয়।'

    'এ বার অনুদানের জন্য আবেদন নয়।' তবে অনুদান নেওয়া অথবা না-নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে ঊর্বশী সর্বজনীন। উদ্যোক্তাদের পক্ষে সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'মিটিংয়ের পরে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।' ভারতী রোড সর্বজনীন পুজো কমিটির পক্ষে কাঞ্চন শাসমলের মন্তব্য, 'অনুদান নেওয়া হবে নাকি হবে না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।'

    পুরুলিয়া জেলার কোলিয়ারি এলাকার নিতুড়িয়া দুবেশ্বরী কোলিয়ারি সর্বজনীনের মুখপাত্র নবনী চক্রবর্তী বলেছেন, 'কোলিয়ারির শ্রমিকদের অনুদানে পুজো হয়। একটা সময়ে ৮০০ শ্রমিক ছিলেন। কোলিয়ারি এখন বন্ধ। তাই সরকারের অনুদান আমাদের কাছে অনেকটাই সহায়ক।' পুরুলিয়া শহরের নডিহা বারোয়ারির এ বার শতবর্ষ। পুজো কমিটির সম্পাদক রাজেন যাদব বলছেন, 'আমাদের পুজোর বাজেট তো সাকুল্যে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা। রাজ্য সরকারের অনুদান আমাদের নিতেই হয়।'

    বাঁকুড়ার ছবিটা আবার মিশ্র প্রকৃতির। বাঁকুড়া শহরের ইন্দারাগোড়া হরেশ্বরমেলা সর্বজনীন পুজোর বাজেট ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সম্পাদক রমেশ মুরারকা বলেছেন, 'সব সদস্যকে নিয়ে মিটিংয়ে বসব, তার পরে সিদ্ধান্ত হবে।' রবীন্দ্র সরণি সর্বজনীনের সম্পাদক সুদীপ চক্রবর্তী বললেন, 'সরকারি অনুদান নেব না।' আবার বাঁকুড়া শহরের মধ্য কেন্দুয়াডিহি সর্বজনীনের কার্যকরী সভাপতি অরিন্দম ঘোষাল বলেন, 'অনুদান নেওয়ার বিষয়ে স্থির কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। একটা বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। কত টাকার উপরে হলে সেটা বড় বাজেটের পুজো বলে ধরা হবে, বুঝতে পারছি না। মাপকাঠিটা জানতে পারলে ভালো হয়।'

    বড়জোড়া শিল্পাঞ্চলের ঘুটগোড়িয়া সর্বজনীন ক্লাব অ্যান্ড লাইব্রেরি দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক সম্পাদক সর্বাণী মণ্ডল বলে দিলেন, 'সরকারি অনুদান নেব। এখন না-নিলে যদি পরে না-পাই, তা নিয়েও ভাবতে হবে। এই মুহূর্তে শিল্পাঞ্চলের বহু কলকারখানা বন্ধ। তাই অনুদান নিতেই হবে।'

    (তথ্য সহায়তা: সঞ্জয় দে, প্রশান্ত পাল, দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং মোহিত দাস)

  • Link to this news (এই সময়)