এই সময়, শিলিগুড়ি: চাকুং নদীর পাড়ে পাহাড় ভেঙে ধস এবং সে কারণে তিস্তা নদীর একাংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনার রেশ কাটার আগেই ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয় সিকিমে। এ বার ওয়েস্ট সিকিমের খেচিপেরি অঞ্চলে নামল কাদাধস। সোমবার রাতের ওই ধসের ঘটনায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রম্ভি–খেচিপেরি সড়কের কিছুটা অংশ। বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। প্রবল কাদাধসে সড়কের কিছুটা অংশ ধসেও গিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর্ব আর কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সিকিমের। প্রবল কাদার স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত রম্ভি–খেচিপেরি সড়কে ইতিমধ্যেই মেরামতির কাজ শুরু করেছে সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। স্থানীয় মানুষজনের কাছে খেচিপেরি একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। একটি প্রাকৃতিক লেককে কেন্দ্র করে ওই তীর্থস্থানটি গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন বেশ কয়েকশো দর্শনার্থী ওই তীর্থস্থান দর্শন করতে যান। সেই খেচিপেরি যাওয়ার পথে এমন কাদাস্রোতের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
কয়েক দিন আগে নর্থ সিকিমের ওসিবীর এলাকায় চাকুং নদীর পাড়ে পাহাড় ভেঙে ধস নামে। তার জেরে তিস্তা নদী স্রোতের একাংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। নর্থ সিকিমের চোলামু লেক থেকে উৎপন্ন হয়েছে তিস্তা নদী। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ওই হ্রদটি পাঁচ হাজার মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত। সেখান থেকে বরফগলা জলের একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ ক্রমাগত তিস্তাকে জলের জোগান দিয়ে চলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নীচের দিকে তিস্তার জলপ্রবাহ কোনও ভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে হ্রদ থেকে আসা জলের প্রবাহ স্বাভাবিক ভাবেই প্রথমে আটকে পড়ে তিস্তা ও চাকুং নদীর সংযোগস্থলে একটি ছোটখাটো হ্রদ তৈরি করবে। একটা সময় পরে ওই হ্রদের জলধারণ ক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে তার পাড় ভেঙে প্রবল বিপর্যয় শুধুই সময়ের অপেক্ষা। তাই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সব মহলেই।
আগাম সতর্কতায় নর্থ সিকিম থেকে বাংলার কালীঝোরা পর্যন্ত তিস্তার উপরে তৈরি সাতটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যারাজের জলই ছেড়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনও বিপদ ঘটেনি। যদিও আশঙ্কা মতোই মঙ্গলবার সরকারি আধিকারিকেরা ওই এলাকায় গিয়ে দেখেন, ধসবিধ্বস্ত এলাকায় সত্যিই একটি লেক তৈরি হচ্ছে। তবে সেটি আকারে এখনও অনেকটাই ছোট।
প্রাথমিক স্তরে ওই লেকের পাড়ের কিছুটা কেটে জল বের করে দেওয়া হবে না কি না, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে বাধ সেধেছে সিকিমের টানা বৃষ্টি। গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম সিকিমের গেজিংয়ে ৩১ মিমি এবং ইয়োকসামে ৬৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির এই জল পাহাড় থেকে নেমে এসে রঙ্গিত নদী হয়ে সোজা তিস্তায় গিয়ে পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীতে জলস্ফীতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে দক্ষিণ সিকিমে ইতিমধ্যেই হলুদ সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। আবহবিদ থেকে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এবং ভূতত্ত্ববিদ — সবার নজরই এখন তিস্তার উপরে।