• পথকুকুরদের গণ-টিকাকরণেই জলাতঙ্ক মুক্ত হবে দেশ, নতুন দিশা ল্যানসেটের গবেষণায়
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • জলাতঙ্ক মুক্ত সমাজ গড়তে শিশুদের ঢালাও টিকা দেওয়ার চেয়ে পথকুকুরদের গণ-টিকাদান করানো অনেক বেশি কার্যকর ও অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক কৌশল। ব্রিটেন ও ভারতের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট রিলিজিয়নাল হেলথ - সাউথইস্ট এশিয়া’-য় প্রকাশিত এই গবেষণায় ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কেরালার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শিশুদের জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনাটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে খুব একটা লাভজনক নয়। কেরালায় শিশুদের টিকা দিতে অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি ডলার ( প্রায় ৮৩ কোটি টাকা) খরচ হবে, কিন্তু আগামী ১০ বছরে এটি যে জলাতঙ্ক পুরোপুরি ভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

    কেরালায় কুকুরের কামড়ের পর চিকিৎসার জন্য ‘পোস্ট-এক্সপোজ়ার প্রোফিল্যাক্সিস’ (PEP) বা জরুরি ভ্যাকসিনের চমৎকার পরিকাঠামো রয়েছে, তাই শিশুদের আলাদা টিকার প্রয়োজনীয়তা কম। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন, দুর্গম বা আদিবাসী অঞ্চলের শিশুদের জন্য, যাদের জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়, শুধুমাত্র তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রি-এক্সপোজ়ার ভ্যাকসিন উপযোগী।

    মানুষের শরীর থেকে জলাতঙ্কের ভয় দূর করার জন্য ভাইরাসের মূল উৎস বন্ধ করাই একমাত্র উপায়। মডেল অনুযায়ী, এলাকার অন্তত ৭০% কুকুরকে টিকা দিলে ৩ বছরের মধ্যে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর হার শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে। WHO নির্দেশ অনুযায়ী ১ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত পোস্ট-এক্সপোজ়ার রেজিম চালু করলে আগামী ১০ বছরে রাজ্যটির প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন ডলার ( প্রায় ৫৮ কোটি টাকা) সাশ্রয় হবে।

    গবেষকরা দেখেছেন যে, কেরালায় পথকুকুরের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি রিপোর্টের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি। রাজ্যে আনুমানিক ২৩ লাখ পথকুকুর রয়েছে। সঠিক গণনার অভাবে পূর্ববর্তী টিকাদান কর্মসূচিগুলো লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম সংখ্যক প্রাণীর কাছে পৌঁছেছে, যার ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ সত্ত্বেও ভাইরাসটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)