পুলক বেরা, তমলুক
সংসারের কাজ সামলে সারা বছর ঘরেই থাকেন তাঁরা। কিন্তু দুর্গাপুজো এ এলেই বদলে যায় রুটিন। কেউ শোলার কাটিং করতে ব্যস্ত। কেউ আবার রঙিন চুমকি আর মুক্তো বসিয়ে তৈরি করছেন গয়না। সেই গয়নাই উঠবে দেবীর গায়ে। কেউ ব্যস্ত প্রতিমার মুকুট তৈরিতে, কেউ আবার পুজোমণ্ডপে প্রতিমার ব্যাকগ্রাউন্ড সাজানোর কাজে ব্যস্ত। পুজোর মরশুমে এই কাজই শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আস্তাড়া গ্রামের বহু মহিলার বাড়তি আয়ের অন্যতম ভরসা। তমলুকের আস্তাড়া এলাকার মৃৎশিল্পীর কর্মশালায় এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। জেলা ছাড়িয়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বাজেটের পুজোর জন্য প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে সেখানে। প্রায় ৫০টিরও বেশি প্রতিমার পাশাপাশি চলছে দেব-দেবীর অলঙ্কার, মুকুট এবং প্রতিমার পিছনের সাজ তৈরির কাজ। আর সেই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন এলাকার মহিলারাই।
শোলা, হোগলা, থার্মোকল, ইমিটেশন, ধাতব চুমকি, মুক্তো-নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমার সাজ। কোথাও সোনালি চুমকির কাজ, কোথাও আবার সাদা চুমকির নকশা। প্রতিমার গায়ের গয়না থেকে সিংহাসন কিংবা পিছনের থিম- প্রতিটি কাজেই চাই নিখুঁত হাতের ছোঁয়া। পূজোর তিন-চার মাস আগে থেকেই শুরু হয় এই কাজ। বর্তমানে কর্মশালায় প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ জন মহিলা কাজ করছেন। আবার অনেকে কাঁচামাল বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সংসারের কাজের ফাঁকে তা শেষ করছেন। মমতা ঘোড়াই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ন'বছর।
তাঁর কথায়, 'প্রথমে এখানেই হাতেকলমে শিখেছিলাম। তখন অনেক কিছু কাটিং দেওয়া হতো, আমরা শুধু অর্চনা ঘোড়াইয়ের কথায়, 'বছরে প্রায় তিন মাস এই কাজ চলে। সেই কয়েক মাসের রোজগার দিয়ে নিজেদের পোশাক-আশাক কিংবা সংসারের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাই। বসে থাকার থেকে এই কাজ করলে নিজেদের হাতে কিছু টাকা আসে। বাচ্চাদের জন্য বা সংসারের জন্য কাজে লাগে।' আবার নমিতা দাসের কাছেও এই কাজের আলাদা আনন্দ। তাঁর তৈরি গয়না বা প্রতিমার সাজ যখন কলকাতা কিংবা অন্য কোনও বড় পুজোমণ্ডপে পৌঁছয়, তখন কাজের প্রতি গর্ব আরও বেড়ে যায়। ঠাকুর দেখতে গিয়ে যখন দেখি আমাদের কাজ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে, তখন খুব ভালো লাগে। অনেকে এসে বলে, এখান থেকে কাজ গিয়েছে- শুনতেও ভালো লাগে।' এ ভাবেই আয় করে অনেকেই এখন রোজগেরে মহিলা।